ডাউন সিনড্রোম কোন রোগ নয়
ডাউন সিনড্রোম কোন রোগ নয়, বরং এটি আমাদের শরীরের একটি জেনেটিক পার্থক্য (ভিন্নতার মাত্রা) এবং ক্রোমোজোমের একটি বিশেষ অবস্থা।
আরো সহজভাবে বলতে গেলে, ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির শরীরের কোষস্মূহে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম থাকে। আমাদের শরীরে প্রত্যেকটি কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ টি। এর মধ্যে ২৩ টি ক্রোমোজোম বাবা এবং অন্য ২৩ টি ক্রোমোজোম মা এর কাছে থেকে আসে, যা জোড়ায় জোড়ায় দেহকোষ তৈরি করে। ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি দেহকোষে ২১ তম ক্রোমোজোমে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ ২১ তম ক্রোমোজোমে তিনটি ক্রোমোজোম থাকে, যাকে ‘Trisomy 21’ বলা হয়। এভাবে ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির শরীরে প্রত্যেকটি কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা দাড়ায় ৪৭ টি।
যেহেতু ডাউন সিনড্রোম কোন রোগ নয় তাই এটি নিরাময় হবার কোন সুযোগ নেই। কেননা এটি গর্ভাবস্থায় শিশুর শরীরের কোষ বিভাজনের সময় সংঘটিত হয় এবং জন্মগতভাবে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম প্রতিটি দেহকোষের ২১ তম ক্রোমোজোমে অবস্থান করে।
সাধারনত ৩৫ বছরের পর থেকে গর্ভধারণে এর ঝুঁকি বাড়তে পারে, তবে কম বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয় মাত্রায় ডাউন সিনড্রোম শিশু জন্মগ্রহণ করছে। বর্ত্মান বিশ্বে প্রতি ৮০০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন ডাউন সিনড্রোম শিশু জন্মগ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশে ডাউন সিনড্রোম এর উপর কোন পরিসংখ্যান নেই। তাই আমাদের দেশে ডাউন সিনড্রোম শিশুর জন্মহার সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। ধারনা করা হচ্ছে সারা পৃথিবীতে এখন প্রায় ৭ মিলিয়ন ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির বসবাস রয়েছে। সঠিক যত্ন নিলে ডাউন সিনড্রোম শিশুরা অন্য স্বাভাবিক শিশুর মত পড়ালেখা করতে পারে এবং উচ্চ শিক্ষিত হয়ে পেশাগত জীবনেও সফল হতে পারে।


