নবজাতক শিশুর শ্বাসরুদ্ধতা
শিশুর জন্মের পর সর্বপ্রথম শ্বাস নিতে চেষ্টা করে এবং এই শ্বাসকার্য সঠিকভাবে শুরু হবার পর সে কেঁদে উঠে। যদি এই স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিংবা শিশু শ্বাস না নিতে পারে তবে একে শিশুর শ্বাসরুদ্ধতা বলা হয়। এই সমস্যাকে ইংরেজিতে বলে অ্যাসফিক্সিয়া নিওনেটোরাম। আজ এই সমস্যার বিস্তারিত চলুন জেনে নেওয়া যাকঃ
কি সমস্যা হয়?
অ্যাসফিক্সিয়া নিওনেটোরাম দেখা দিলে শিশুর যেসব সমস্যা হতে পারে তা হলোঃ
- শিশু সঠিকভাবে অক্সিজেন পায়না যার ফলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়,
- শিশুর শরীরে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শরীরে জমা হয়,
- রক্তের অম্লতা বাড়তে থাকে।
অ্যাসফিক্সিয়া নিওনেটোরাম এর কারণঃ
অ্যাসফিক্সিয়া নিওনেটোরাম এ বেশিরভাগ আক্রান্ত হয় অপরিপক্ক শিশু, ডায়বেটিক রোগী মায়ের শিশু, কম ওজনের শিশুরা। এই সমস্যাটি শিশুর জন্মের তিন ধাপের হতে পারে। প্রসবের পূর্বে, প্রসবের সময় কিংবা প্রসব পরবর্তী সময়ে।
প্রসবের পূর্বে গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ হলে, গর্ভফুলের অপর্যাপ্ততা থাকলে এই সমস্যা হতে পারে। এছাড়া প্রসবের সময় সন্তানের নাড়ি কোন কারণে চাপা পড়লে, নাড়ির প্যাচের কারণে শিশুর সমস্যা হলে অ্যাসফিক্সিয়া নিওনেটোরাম হতে পারে। এবং প্রসবকালীন আঘাতেও এই সমস্যায় ভুগতে পারে শিশু।
কি ব্যবস্থা নিতে হবে?
- শিশুর জন্মের সাথে সাথে মাথা সামান্য নিচের দিকে রাখতে হবে। এতে করে জন্মের সময় আটকে পরা শ্লেষ্মা, অন্যান্য পদার্থ বের হয়ে যেতে পারে।
- দ্রুত শিশুর নাড়ি কাটতে হবে।
- শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব উষ্ণ বা গরম রাখতে হবে।
- শিশু এক মিনিটের মধ্যে শ্বাস না নিলে মুখে মুখে লাগিয়ে পরিমিতভাবে ফুঁ দিতে হবে।
- এসব কিছুতে কাজ না হলে দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে।


