গর্ভকালীন সময়ে রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা
গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করতে হয়ে থাকে। লক্ষ্য থাকে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। একই সাথে গর্ভের শিশুর সুস্থ্যতাও এর মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। আসুন দেখে নেয়া যাক গর্ভকালীন সময়ে রক্তের কি কি ধরনের পরীক্ষা করা হয়ে থাকে এবং কেন?
গর্ভাবস্থায় রক্তের কিছু পরীক্ষাঃ
(১) রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ঃ
এ কথা মোটামুটি সবাই জানে যে, রক্তের গ্রুপ না মিললে জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষা করার জন্য রক্ত সঞ্চালন করা যায় না। এ জন্য একজন গর্ভবতীর রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই একজন সচেতন গর্ভবতীর উচিৎ তাঁর রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা এবং গ্রুপ মিলিয়ে কয়েকজন পরিচিত সম্ভাব্য রক্তদানকারী ঠিক করে রাখা। প্রয়োজনের সময় যেন অবিলম্বে ভাল মানের রক্ত পাওয়া যায়। সম্ভাব্য রক্তদানকারীকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবান ও সংক্রামক ব্যাধিমুক্ত হতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে।
(২) রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষাঃ
বাড়তি চাহিদার কারনে গর্ভকালে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতে হতে পারে। তাই মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখতে হবে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক আছে কিনা।
(৩) হেপাটাইটিস ভাইরাসের জন্য পরীক্ষাঃ
মারাত্মক হেপাটাইটিস-বি গর্ভকাল ও প্রসবকে জটিল করে পারে। নবজাতককে সংক্রমিত করতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করে হেপাটাইটিস সম্পর্কে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
(৪) যৌনবাহিত রোগ সিফিলিসের জন্য রক্ত পরীক্ষাঃ
সিফিলিস সহজে চিকিৎসাযোগ্য। কিন্ত মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রোগ। তাই গর্ভকালে সিফিলিস আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা খুবই জরুরি।
(৫) রক্তের শর্করা পরীক্ষাঃ
গর্ভকালে বহুমূত্র রোগ একটি সাধারন জটিলতা। তাই নিয়মিত বহুমূত্র রোগ নির্ণয়ের লক্ষ্যে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।


