শিশুর মনোজাগতিক বিকাশে পিতামাতার ভূমিকা
শিশুর শিক্ষার প্রাথমিক স্তর শুরু হয় পরিবার থেকেই। জন্মের পর যখন সে বুঝতে শেখে তখন থেকেই সে তার মা কে অনুসরণ করতে চেষ্টা করে। যদিও শিশুর বিকাশে জিন এর প্রভাব আছে তারপরও শিশুর মনোজাগতিক বিকাশে পরিবারের ও পারিপার্শ্বিকের ভূমিকা ও অপরিসীম।
সন্তান যখন একটু বড় হয় তখন তার চোখে থাকে অনন্ত জিজ্ঞাসা। সে তার কৌতূহলী চোখে সব কিছু দেখে এবং এই সময়ে খুব সহজেই তার মনে দাগ পড়ে। এই সময়ে বাবা-মা এর উচিত নয় শিশুর সামনে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা বা ঝগড়া করা। এটা শিশুর মনে চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। এই সন্তান বড় হলে বাবা-মা এর অবাধ্য হতে পারে বা পরিবার বিমুখী হতে পারে। তাই পারিবারিক কোন সমস্যা বা পারিবারিক কলহ সন্তানের সামনে করা উচিত নয়। নিজেরা আলোচনা করে সব সমাধান করা উচিত।
খেয়াল করুণ শিশু কি করতে ভালোবাসে। ছোটবেলায় সবার ই কিছু ভালো লাগা থাকে, যেমন- ছবি আকা, নাচ বা গান করা, মনের শখ মিটাতে কোন কিছু সংগ্রহ করা আরো অনেক কিছুই। এই শখগুলো শিশুদের মনোজাগতিক বিকাশে অনেক সাহায্য করে, তাদের মনের ভিতরে সুপ্ত প্রতিভাকে বাইরে টেনে বের করে আনে। তাই এসব কাজে শিশুকে বাধা না দিয়ে বরং উৎসাহ দেয়া উচিত। সন্তান স্কুলে ভর্তি হলে অনেক বাবা-মাই মনে করেন পড়াশুনার বাইরে সব কিছুই খারাপ। এটা ভুল ধারণা। বরং শিশুকে উৎসাহিত করুণ এতে তার মন ও ভালো থাকবে আর মন ভালো থাকলে তার পড়াশুনাতেও উৎসাহ বাড়বে। আর পড়ার বইয়ের পাশাপাশি শিশুকে সিলেবাসের বাইরের বই পড়তেও উৎসাহিত করুণ। পড়ার অভ্যাস একটি শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
শিশুকে শেখান কিভাবে চারপাশের মানুষকে ভালবাসতে হয়, অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে হয়। পারস্পারিক সহযোগিতায় কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়। শুধু মানুষ নয় তাকে সেখান প্রকৃতি ও তার আশ্রিত পশুপাখিকেও ভালবাসতে হয়। ছোটবেলাতেই তাকে ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে ধারণা দিন। একটি শিশুর মন থাকে কাদা মাটির মন নরম। খুব সহজেই তাতে সুন্দর গড়ন এনে দেয়া যায়। তাই আপনার সন্তানকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলুন। দুষ্টুমি করলে বকাঝকা না করে সুন্দন ভাবে বুঝিয়ে বলুন। তার সাথে বন্ধুর মত মিশুন। একদিন সে অবশ্যই আপনার মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।


