গর্ভবতী মা ও ক্যাফেইন নিয়ে কিছু কথা
সাধারণত অনেক মানুষেরই চা-কফি’র এক ধরনের নেশা থাকে যা হঠাৎ কাটানো বেশ অসম্ভব। কিন্তু গর্ভধারনকালে চা কিংবা কফির ক্যাফেইন মায়ের শরীরে বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে যা মা ও শিশু উভয়ের জন্য ক্ষতিকারক। তাই এই সময়ে মায়ের চা কিংবা কফি পানে বেশ পরিমিতিবোধ প্রয়োজন। চা-কফির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আগেই কথা হয়েছে কিন্তু পরিমিতিবোধের পরিমাণটাই বা কতটা? এই নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন আজঃ
একজন গর্ভবতী কতটা ক্যাফেইন নিতে পারবেন এক দিনে?
কফি কিংবা ক্যাফেইনেটেড ড্রিঙ্কস সমূহ গর্ভকালীন সময়ে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এই সময়ে যতটা পারা যায় এসব ত্যাগ করাই ভালো। কিন্তু যারা একেবারেই চা-কফি ছাড়া চলতে পারেন না তাঁদের জন্য এই পরিমাণটা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নির্ধারণ করে দিয়েছেন ২০০ মিলিগ্রাম এর মধ্যে। সারাদিনে একজন গর্ভবতী মা ২০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহন করতে পারবেন। কোনভাবেই যেন তার বেশি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখাটা বিশেষ প্রয়োজনীয়।
এক্ষেত্রে এই পরমানটিও জেনে রাখা ভালো হবে যেঃ
একটি সাধারণ মাপের এক মগ ইন্সট্যান্ট কফিতে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে।
এক মগ চায়ে ৭৫ মিলিগ্রাম কফি থাকে।
গ্রীন টি’তে ক্যাফেইনের পরিমাণ ৭৫ মিলিগ্রাম।
৫০ মিলিগ্রাম চকোলেটে ক্যাফেইনের পরিমাণ ৫০ মিলিগ্রাম।
৫০ মিলিগ্রাম মিল্ক চকোলেটে ক্যাফেইনের পরিমাণ ২৫ মিলিগ্রাম।
এইসব ক্যাফেইনের মাধ্যমকে একত্রিত করে দিনে যাতে কোনভাবেই তা ২০০ মিলিগ্রামের বেশি অতিক্রম না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখাটা খুব জরুরী।
কোন কোন পানীয় এই সময় উপকারী হতে পারে?
ক্যাফেইন পরিত্যাগ করার পরেও এমন কিছু পানীয় রয়েছে যা কিছুটা হলেও চা-কফির তৃষ্ণা মেটাবে এবং নিজেকে সারাদিন ঠিক রাখতেও সহায়তা করবে। এমন কিছু খাবার হলোঃ
- বিভিন্ন ফলের রস।
- হারবাল চা।
- দুধ।
- প্রচুর পরিমাণে পানি।
তবে যারা প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন পান করে থাকেন বিভিন্ন ড্রিঙ্কস এর মাধ্যমে তারা যদি গর্ভকালীন সময়ে একবারেই এসব ছেড়ে দেন তবে মাথা ব্যথা, শরীরে ক্লান্তভাব এবং মনোযোগের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে বিকল্প অভ্যাসের মাধ্যমে তা ঠিক করে নেওয়া সম্ভব।


