শিশুর অতিরিক্ত ওজন এবং বাবা-মা’র দুশ্চিন্তা
একটু নাদুস-নুদুস, গোলগাল শিশু দেখতে সবাই খুব পছন্দ করে থাকে। কিন্তু শিশুর ওজন বা এই মোটা হয়ে যাওয়াটাও বাবা-মায়ের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় যখন কোনভাবেই শিশুর ওজন নির্দিষ্ট কোন গন্ডির ভেতর রাখা যায় না। তাই ছোটবেলাতেই শিশুর ওজনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ।
সাধারণত নয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের বর্ধিত ওজনের সমস্যা দেখা যেতে পারে কিংবা শিশুর ওজন হঠাৎ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর কারণ হিসেবে বেশ কিছু ব্যাপার সম্পর্কে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিষয় গুলো হতে পারেঃ
- শিশুর জন্মের সময় ওজন (পাঁচ কেজি বা এর বেশি) বেশি থাকা।
- যদি বাবা-মা দুজনই অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী হয়ে থাকেন তবে সন্তানেরও এই সমস্যা হতে পারে।
- যেসব মা গর্ভকালীন ডায়বেটিসে ভুগে শিশু জন্মদান করেন তাঁদের সন্তানদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন বা মোটা হওয়ার প্রবণতা বেশি হয়ে থাকে।
- আবার অনেক সময় হঠাৎ করেই ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। এক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
শিশুর অতিরিক্ত ওজনে বাবা-মায়ের করণীয়ঃ
- শিশুর ওজনের জন্য একটি নির্দিষ্ট চার্ট রাখুন যাতে করে শিশুর বৃদ্ধি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা রাখতে পারেন এবং যদি চার্ট অনুযায়ী শিশুর হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি দেখা যায় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো বেশি ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিরোধকের মতো কাজ করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করে থাকেন তাদের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
- শিশুর জন্য পর্যাপ্ত বিভিন্ন রকমের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন এবং লক্ষ্য রাখুন যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন এবং শর্করা শিশুর খাদ্য তালিকায় না থাকে।
- শিশুকে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। যেমন, সময়মত ক্ষুধা লাগলে খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত খাবার না খাওয়া, ক্ষতিকর খাবারগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ইত্যাদি অভ্যাস।
- শিশুদের যতটা সম্ভব নড়াচড়া বা চলাফেরার মধ্যে থাকতে হবে। এতে করে শিশুরা অতিরিক্ত ওজন গ্রহণ থেকে রক্ষা পেতে পারে। শিশুদের বিভিন্ন কাজে এমনভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করতে হবে।


