গর্ভাবস্থায় এলার্জি নিয়ন্ত্রণ
এলার্জি একটি সাধারণ শারীরিক সমস্যা যা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তাই এটা আশ্চর্যজনক কিছুই নয় যে গর্ভবতী মায়েরাও এতে ভুগবেন। তবে এলার্জি নিয়ন্ত্রণে যেসকল ওষুধ খেতে হয় তা নিয়ে গর্ভবতী মা’রা অনেক সময়ই দ্বিধায় ভোগেন যে তাদের খাওয়া উচিৎ কিনা। আপনার এলার্জি হতে পারে যদি আপনার শরীরের মিউকাস মেমব্রেন সংকুচিত হয়ে যায়। এটা তেমন কোন বড় সমস্যা না এবং আপনি ও আপনার শিশু, উভয়ের জন্যই এটা নিরাপদ।
তবে ওষুধ গ্রহণের সময় অবশই সতর্ক হতে হবে। আগের অনেক ঔষধে গর্ভকালীন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আলামত পাওয়া গেছে। তাই ঐসকল ওষুধ খাওয়ার সময় চিকিৎসকের পূর্ণ তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। অবশ্য আধুনিক অনেক ওষুধ বের হয়েছে যেসবে তেমন কোন ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায় নি।
যাই হোক, গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সব ধরণের ওষুধ গ্রহণকেই নিরুৎসাহিত করা হয়। কেননা সব ওষুধেরই ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া আছে। তবে ওষুধ যদি নিতান্তই নিতে হয়, তাহলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এমনকি গর্ভ ধারণের আগে কোন ওষুধ নিয়মিত খেলেও, গর্ভধারণের পরে ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
পাশাপাশি যেসকল কারণে আপনার এলার্জিতে ভোগার প্রবণতা তৈরি হয়ে সেসকল কারণ পরিহার করার চেষ্টা করুন। কারো কারো নির্দিষ্ট কোন খাবার এলার্জি থাকে যেমনঃ গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ বা ডিম। সেক্ষেত্রে এইসকল খাদ্য পরিহার করে এর পুষ্টি লাভের জন্য বিকল্প খাদ্য উৎস সন্ধান করুন। এছাড়াও যেসব পরিবেশে গেলে আপনার এলার্জির সংক্রমণ বেড়ে যায় সেসব পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। যেমন: অনেকেই ধুলাবালিতে গেলে বা নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির ফুল এবং সুগন্ধের কাছে গেলে এলার্জিজনিত সমস্যায় ভোগেন। এরকম ক্ষেত্রে ঐ ধরনের পরিবেশ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
তবে আপনার যদি এলার্জির সাথে আরও অন্য কোন রোগ সংশ্লিষ্ট থাকেন যেমন এজমা, সেক্ষেত্রে স্পষ্টতই সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে একই সাথে সকল ব্যাধির ব্যবস্থাপত্র নিতে হবে। যদিও দাবী করা হয় আধুনিক ওষুধ সমূহের কোন ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তবে ওষুধ গ্রহণের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন ওষুধটি পরিক্ষিত হয়। কেননা অধিকাংশ নতুন ওষুধই পরীক্ষিত নয় এবং তাই এইসকল ক্ষেত্রে পুরনো অথচ পরীক্ষিত ওষুধ গ্রহণই শ্রেয়।


