ত্রিশের পরে মা হলে
এ যুগের নারী-পুরুষ উভয়ই পড়াশোনা, ক্যারিয়ার এসবের পিছনে অনেক বেশি সময় দিয়ে থাকেন। জীবনে একটু থিতু হওয়ার পর বিয়ে, সংসার, সন্তান এসবের ভাবনা ভাবতে শুরু করে থাকেন তারা। ফলে মাতৃত্বের পক্ষে বয়স্টা একটু বেশি হয়ে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীরে জরার প্রভাব পড়ে এবং ধীরে ধীরে দৈহিক ক্ষমতা হ্রাস পায়। কিছু কিছু রোগ যেমনঃ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, বাতব্যাধি ইত্যাদি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যেতে থাকে। তাছাড়া বেশি বয়সে নানা কারনে জরায়ুর মুখ ও যোনিপথ এবং তার মাংশপেশী স্বাভাবিক কোমলতা হারিয়ে ফেলার ফলে অনমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
৩০ বছরের বেশি বয়সে যারা গর্ভধারণ করেন তাদের প্রায় সব সময়ই জটিলতা দেখা দেয়ার আশংকা থাকে। গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের সময় পর্যন্ত এদের গর্ভকালীন উপসর্গ বেশি দেখা যায়। সম্ভাবনা থাকে গর্ভপাতের, একলাম্পশিয়া, রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদিতে ভোগার। তাছাড়া প্রসবের জন্য তাদের দুঃশ্চিন্তা থাকে বেশি। গর্ভস্থ সন্তানের জন্মগত দোষ দেখা দিতে পারে। সময়ের আগে প্রসব হয়ে যেতে পারে, যাকে বলা হয় ‘প্রিম্যাচিউর লেবার’ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেলিভারির জন্য অপারেশনের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এসব ছাড়াও পরবর্তী গর্ভধারণে জটিলতা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাই বেশি বয়সে যারা বিয়ে করে থাকেন, তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে দেরি না করে বিয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব সন্তান নিয়ে নিতে হবে। গর্ভধারণের সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং ঘন ঘন চেক-আপ করাতে হবে।


