শিশুর কল্পনাশক্তিঃ প্রয়োজনীয়তা এবং কি করে কল্পনাশক্তি বাড়াবেন?
সন্তানের শারীরিক দিক সম্পর্কে খেয়াল রাখা নিয়ে বাবা-মা’কে কিছু বলতে বা মনে করিয়ে দিতে হয় না খুব একটা। আর কিছু জানা না থাকলেও নিজ গরজেই বাবা মা তাদের দায়িত্ব সেরে নেন। কিন্তু শরীরের দিকে নজর রাখতে গিয়ে ছোট্ট শিশু সন্তানেরও যে একটা মন রয়েছে তারও যে পরিচর্যা করা দরকার তা ভুলেই যান বাবা-মা। কি করে সন্তানের কল্পনাশক্তি বাড়াতে পারেন? কেনই বা তা বাড়ানো দরকার? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিন আজকের লেখা থেকে।
কল্পনাশক্তির প্রয়োজনীয়তাঃ
একটি শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত সামর্থ্য করে তুলতে কল্পনাশক্তির প্রয়োজন অনেক বেশি। কি কি কারণে এসব প্রয়োজন চলুন জেনে নেওয়া যাক।
১। শিশুর শব্দভাণ্ডার নতুনভাবে সমৃদ্ধ হতে পারে এই কল্পনাশক্তির মাধ্যমে। বিভিন্ন রকমের গল্প, কাহিনী শিশুর শব্দভাণ্ডারকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে।
২। একটি ছোট শিশু যা শেখে, যা ভাবে তা নিয়েই প্র্যাকটিস করতে চেষ্টা করে সবসময়। গল্পের চরিত্রের মতো নিজদের তৈরি করে নিতেও চেষ্টা করে। এতে করে সে বিভিন্ন সময়ে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা শিখে নিতে পারে সহজেই।
৩। একটি দুই বছরের শিশুর কল্পনাশক্তির পরিচর্যার মাঝে তাকে সামাজিক বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে শেখানো যেতে পারে। জীবনঘনিষ্ট সব চিন্তা-ভাবনা তাকে সত্যি জীবনটাকে বুঝিয়ে দিতে পারে।
৪। সমস্যা সমাধান করাঃ শিশুর কল্পনাশক্তি শিশুকে সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে বাঁচতে শেখায়। এতে করে সে নিজেই নিজের মতো করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা ভাবতে শেখে, বুঝতে শেখে যা তার পরবর্তী জীবনকে সুন্দর করে তুলতে সহায়তা করে।
কি করে শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়াতে পারেন? এখন এই বিষয়ে ভাবছেন তো? জেনে নেওয়া যাক এর কিছু উপায়।
- বেশি বেশি বই পড়া, শিশুকে বই পড়তে উৎসাহিত করা।
- শিশুর সাথে বাবা-মায়ের বাস্তব জীবনের নানা গল্প শেয়ার করা।
- শিশুকে ছবি আঁকতে দেওয়া এবং সে কি এঁকেছে তা নিজেকে বর্ণণা করতে দেওয়া।
- শিশুকে গান শোনানো, সম্ভব হলে ও বাসায় ইন্সট্রুমেন্ট থাকলে তার সাথে সুর তৈরির চেষ্টা করা।
- শিশুর সাথে বিভিন্ন চরিত্র সেজে অভিনয় করা, খেলা করা।
- বিভিন্ন রকমের খেলনা, বিভিন্ন জিনিসপত্রের সাথে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
- শিশুর টিভি দেখার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া, বেশি টিভি দেখলে শিশুর কল্পনাশক্তি টিভির বাইরে অন্য কিছু নিয়ে হতে পারে না।


