৩৫ এর পরে গর্ভধারণ – ভবিষ্যতের মায়েদের যা জানা উচিত
বয়স হয়ে গেছে ৩৫, এর পর বাচ্চা নিতে চাওয়া মানেই অনেক বেশি সাবধানতা এবং অতিরিক্ত কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা। তবে এতে ভয়ের তেমন কোন কারণ নেই কারণ ১০ টির মধ্যে ১ টি বাচ্চাই জন্ম দেন ৩৫ ঊর্ধ্ব মায়েরা এবং অধিকাংশ বাচ্চা কোন রকম জটিলতা ছাড়াই জন্ম নেয়। ৩৫ বছরের বেশি মহিলাদের প্রধানত যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সেটা হল উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস, তবে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মাধ্যমে এই বয়সেও মায়েরা সুন্দর ভাবে সুস্থ্য বাচ্চার জন্ম দিতে পারেন।
এই বয়সের মহিলাদের গর্ভধারণের জন্য পরিমান মত খাবার গ্রহন করতে হবে, হাল্কা ব্যায়াম করতে হবে এবং নিয়মিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ৩০ এর পর থেকেই ওজন বাড়তে থাকে, তাই গর্ভধারণের সময় সুষম ও নিয়ন্ত্রিত ডায়েট পরিকল্পনা গ্রহন করা উচিত। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে সকল ইচ্ছুক মহিলারই উচিত তার খাবারের সাথে অতিরিক্ত ৩০০ ক্যালোরি যোগ করা।
৩৫ ঊর্ধ্ব ইচ্ছুক মহিলাদের জেনেটিকাল পরীক্ষা করে নেয়া উচিত, কারণ এই বয়সে ক্রোমোসোনাল অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। তারা ৯ থেকে ১১ সপ্তাহের মধ্যে chorionic villus sampling (CVS) বা ১৫ থেকে ১৬ সপ্তাহের মাঝে amniocentesis পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তবে CVS এর ক্ষেত্রে গর্ভপাতের ভয় একটু বেশি থাকে। এই পরীক্ষা সফল হলে পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি নেয়া যেতে পারে।
৩৫ এর পড়ে গর্ভধারণ উচ্চ রক্তচাপ আর ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এর সাথে preeclampsia বা গর্ভধারণ জনিত হাইপার টেনশনও বাড়তে পারে। এমনকি অকাল গর্ভপাতের ঝুঁকিও সাধারণের থেকে একটু বেশি থাকে। জমজ বাচ্চা হবার সম্ভবনা বাড়ে আর প্রসবকালীন ব্যাথা ও আগে থেকে শুরু হয় এজন্য অধিকাংশ ৩৫ ঊর্ধ্ব মহিলাই সিজারিয়ান বাচ্চা নিতে চান।
যদিও ৩৫ বছরের উপরে বাচ্চা নিতে কিছুটা ঝুঁকি নিতে হয় তবে একটা সুস্থ্য সবল বাচ্চা এর জন্ম মা কে সব কষ্ট ভুলিয়ে দিতে পারে। মা নবজাতকের স্বর্গীয় মুখের কথা ভেবেই এই সকল কষ্ট হাসি মুখে মেনে নেন। তবে নিয়মিত পরিচর্যা, পরিমিত আর সামঞ্জস্যপূর্ণ খাবার, একটু যোগব্যায়াম সেই সব ঝুঁকিকে অনেকাংশে কমিয়ে দিয়ে একটি সুস্থ্য শিশুর জন্মদানে সাহায্য করে।


