অসুস্থ শিশুর খাদ্য
শিশুর যে কোন অসুস্থতাতেই- সে ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়া যাই হোক মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। পৃথিবীতে এমন রোগ অত্যন্ত বিরল যাতে কিনা চিকিৎসকেরা মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে নিষেধ করেন। কুসংস্কার ও অজ্ঞতার বশে অনেক মায়েরা শিশুর অসুস্থতায় বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেন। অথচ এই সময়টায় বুকের দুধ খাওয়া শিশুর জন্য অত্যন্ত জরুরি। জ্বর হলে শিশুর দেহের জল উড়ে যায়। তাই তাকে বেশি করে তরল খাবার দিতে হবে, পাতলা পায়খানা হলে তো বটেই। অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চারা তরল খাবারই পছন্দ করে। পানি, শরবত, ঝোল, সুপ যা পছন্দ করে তাই খেতে দেয়া উচিৎ। আমাদের দেশে জ্বর হলে বা অসুখ হলে শিশুদের ভাত, মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি খাবার বন্ধ করে দেয়া হয়। সহজ পাচ্য বলে ভাত, অসুস্থতায় রুটি- পরোটার চেয়ে অনেক ভাল। অসুস্থ শিশুকে মরিচ মশলা কম দিয়ে সহজপাচ্য করে মাছ, মুরগির মাংস, ডিম খেতে দিতে হবে। এছাড়া ডাল, বরবটি, শাক-সব্জি, ফল ও দুধ অসুস্থ অবস্থায় অত্যন্ত উপকারি।
অসুস্থ অবস্থায় শিশুরা অনেক সময় নিয়মিত পরিমাণ খাবার একসঙ্গে খেতে পারে না, তাদেরকে বারে বারে অল্প অল্প করে খেতে দিতে হবে। যেসব শিশুর অরুচির কারণে পরিমাণে কম খায় তাদের খাদ্যে চিনি ও সয়াবিন তেল/ ঘি একটু করে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে, এতে খাদ্যের খাদ্যমান (ক্যালরি) আরো বাড়বে। অল্প খেয়েও সে বেশি শক্তি পাবে।
কয়েকটি রোগে বিশেষ ধরনের পথ্য লাগে আবার কোন জটিল অবস্থায় মুখে খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়। তার মধ্যে কিডনির রোগ, হৃদরোগ, বহুমূত্র, মারাত্মক পুষ্টিহীনতা, অবিরাম ডায়রিয়া ইত্যাদিতে বিশেষ ধরণের পথ্য লাগে। এপেন্ডিসাইটিস, নাড়িভূড়ির আবদ্ধতা, পেটের প্রচন্ড যন্ত্রণা ইত্যাদিতে মুখে কিছু খাওয়ানো এমনকি পানি পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।


