গর্ভধারণঃ মায়ের বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন অবস্থা (পর্ব-দুই)
পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে গর্ভাবস্থায় মায়ের বয়স পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত থাকাকালীন মা হতে গেলে কি কি অবস্থা দেখা দিতে পারে কিংবা কখন কি সমস্যা হতে পারে। অনেকেরই মনে হতে পারে পঁয়ত্রিশ এর পর কেউ কি মা হতে চায় আসলেই? তার উত্তর হলো- সাধারণভাবে এর পরের বয়সকে মা হওয়ার বয়স হিসেবে অনুপযোগী মনে হলেও বিশেষ এমন অনেক কারণ থাকতে পারে কিংবা ঘটতে পারে যার কারণে পঁয়ত্রিশের পরেও অনেক নারী মা হবার ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন। তাই আসুন আজ জেনে নেই এই বয়সে মা হতে যাবার বিভিন্ন দিকগুলোঃ
বয়স যখন পঁয়ত্রিশ থেকে ঊনচল্লিশঃ
মায়ের শরীর গর্ভধারণ করার ক্ষমতা কমতে কমতে সাধারণত আটত্রিশ বছর বয়সে এসে অনেকটাই শূন্যের কোঠায় চলে আসে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিভিন্ন ঔষধের সাহায্যে মা হওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ সময় গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা পূর্ববর্তী বয়সসীমার তুলনায় অনেক বেশি থাকে। আর এসব সমস্যা আরও বেশি পরিমাণে দেখা দিতে পারে যদি গর্ভবতীর ওজন আগে থেকেই অনেক বেশি হয়ে থাকে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই এ সময় সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়া বেশি হয়ে থাকে। এ বয়সে মা হতে চাইলে সারাক্ষণ একজন মা ও শিশুর বিশেষজ্ঞের অধীনে থাকাটাই শ্রেয়। তার সাথে মায়ের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় একজন মনোযোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।
বয়স যখন চল্লিশ থেকে পঞ্চাশঃ
এ বয়সে সফলভাবে শিশু জন্মদানের হার খুব একটা বেশি নয় তাই এ সময়ে সফল জন্মদানের প্রক্রিয়াকে বেশ ভালো সাফল্য বলে চিহ্নিত করা হয় না। আর কেউ যদি তাতে সক্ষম না হন তবে বিকল্প ব্যবস্থার (যেমন টেস্টটিউব) সাহায্য নিতে হয়। কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিসের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বেশি দেখা যায় বলে অন্য যে কোন গর্ভাবস্থার চাইতে এসময় চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখতে হয়। শারীরিক অবস্থা যতই ভালো হোক না সব সময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।


