সন্তানের সুন্দর চরিত্র গঠনে আপনি যা করতে পারেন
ছোটবেলা থেকেই বাবা মায়ের বিভিন্ন চেষ্টা থাকে যাতে তাঁদের সন্তান উন্নত মানসিকতা ও ভালো চরিত্র নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে। সন্তানের বিভিন্ন কার্যকলাপেই বাবা মায়ের পরিচয় তাই বাবা মায়ের পরম দায়িত্ব তাঁদের সন্তানের উন্নত, রুচিশীল ও ভদ্র মানসিকতার মধ্য দিয়ে বড় করে তোলা। সন্তানকে দয়াশীলতা, পরোপকারিতা ইত্যাদি গুনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কি করে করে এসব গুণ শিশুর মধ্যে গড়ে তুলবেন? জেনে নিন কিছু পন্থাঃ
- এমন কিছুতে নিজে জড়িয়ে পড়বেন না যা থেকে আপনার সন্তান ভুল কিছু শিখতে পারে। একটি ছোট্ট শিশু বাবা মা’কেই নিজের আদর্শ হিসেবে দেখতে পছন্দ করে। তাই সন্তানকে শিক্ষা দেবার আগে নিজের ব্যপারে সচেতন হোন।
- ছোটবেলাতেই শিশুকে শিখিয়ে দিন এমন কিছু বেদবাক্য যা সে মান্য করবে। এ সময়টাই একজন মানুষের সকল ভিত্তি তৈরী করার সময়। তাই বেশ কিছু ভালো কাজ যা সে করতে পারে তার তালিকা তৈরি করুন সন্তানের সাথে বসেই।
- আপনার সন্তানকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক পরোপকারিতা, বন্ধুত্ব ও দয়াশীল কাজে অংশ নিন। এতে সে আপনার কাছে থেকে শিখবে এসব বিষয়ে।
- আপনার সন্তানকে অপরের অবস্থা বুঝে কোন কাজ করার ব্যপারে পরামর্শ দিন। তাকে বুঝিয়ে বলুন কেউ আনন্দিত থাকলে তাতে খুশি হতে হয়, আবার কেউ কোন সমস্যায় থাকলে তাতে সান্ত্বনা দিতে হয়। এভাবে সমাজের কাছে আপনার সন্তান যাতে নিজেকে তুলে ধরে সে শিক্ষা দিন।
- আপনার সন্তানকে বলুন যেন সে প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করে। আর তার একটি তালিকাও তৈরি করুন। এতে একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে সে নিজের ভালও কাজের ভান্ডার দেখে খুব আনন্দিত হবে আর পরবর্তীতে আরও ভালও কাজে উৎসাহিত হবে।
- সন্তানকে বুঝিয়ে বলুন কোন কথা কাউকে দিলে যে কথা রাখতে হয়। না হলে সে যাকে কথা দিয়েছে তার বন্ধুত্ব হারাবে। তাকে আদর, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব এসবের গুরুত্ব বোঝান বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে।
- শিশু না বুঝে কোন ভুল কাজ করলে সাথে সাথে তাকে তিরস্কার শুরু করবেন না। তাকে বুঝিয়ে আদরের সাথে বুঝিয়ে বলুন সে যা করেছে তা ঠিক নয়।
- শিশুকে ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করুন যাতে সে আরও উৎসাহী হয়ে উঠে।
- অন্যায় কোন কিছুকে আদর ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে প্রশ্রয় দেবেন না।
এভাবেই আপনি আপনার সন্তানের ভালো চরিত্র গঠনে রাখতে পারেন দারুণ ভূমিকা।


