সন্তান সামলানোঃ কখন শিশুকে “না” বলতে হবে?
সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াটি যেমন মা নয় মাস অনেক কষ্ট সহ্য করে সম্পন্ন করেন, ঠিক তেমনি সন্তান বড় করে তোলা, মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজটিও বাবা-মা’কে সামলাতে হয় বেশ শক্ত ও সুদৃঢ় হাতে। সন্তান বড় হবার সাথে সাথে শিশুকে ভালোভাবে মানুষ করতে অনেক সময়ই শাসনের দ্বারস্থ হতে হয় বাবা-মা’কে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে শিশুকে ‘না” বলাটা কঠিন হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটি মেনে নেওয়াই শ্রেয়। শিশুকে সামলাতে কোন কোন পরিস্থিতিতে বাবা-মা’কে এমন কঠিন পর্যায় পার করতে হয় চলুন জেনে নেওয়া যাকঃ
- শিশুদের অযথা বা অতিরিক্ত আবদার মেনে নেওয়া কখনোই উচিৎ নয়। শিশুর চলার পথে বিভিন্ন সমস্যা আসতে পারে। এই সমস্যাগুলো যদি সে মেনে নিতে না পারে তবে ভবিষ্যতে সে অনেক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। তাই নিজে বুঝে নিন, শিশুর আবদার কতটা পর্যন্ত মেনে নেওয়া যাবে, কতটা যাবে না।
- কোন বিপদ বা সংকটজনক মুহূর্তে শিশুরা যদি অন্যায় আবদার করে থাকে তো শিশুদের প্রতি বাবা-মায়ের না বলা শিখতে হবে যাতে করে শিশুরা কোন পরিস্থিতিতে কি ধরণের আচরন করা উচিৎ তা শিখতে পারে।
- আরেকটি ব্যাপারে অবশ্যই শিশুদের “না” বলা শিখতে হবে বাবা-মায়েদের। আর তা হলো ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড খাবারের প্রতি। শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই এসব খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু শিশুদের যদি ছোটবেলা থেকেই এসব অভ্যাসে অনুৎসাহিত করা হয় তবে তা শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্যই ভালো হবে।
- শিশুর সাথে কোন ভুল বোঝাবুঝি হলে তা যাতে কখনোই খুব বড় পর্যায়ে না যেতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখাটা বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধুমাত্র শিশুদের প্রতি নয়, না বলুন তাদের সাথে ভুল বোঝাবুঝিকেও।
- শিশুকে কখনোই খুব বেশি পছন্দ দিয়ে একটি বাছাই করতে বলা উচিৎ নয়। এতে করে শিশুরা যেকোন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলতে পারে।
- এমন ব্যাপারে শিশুকে না বলতে শিখুন যা আপনাকে কোনরকম বিব্রতকর পরিবেশে ফেলে দেয়। শিশুদের বুঝতে হবে কোন পরিস্থিতিতে কোনটি বলা উচিৎ এবং কোনটি নয়।
- শিশুদের জন্য অতিরিক্ত নিয়ম কানুন বেঁধে দেওয়াকেও না বলুন। শিশুকে খুব বেশি নিয়ম কানুনে বেঁধে রাখতে চাইলে হয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে।
ফটো ক্রেডিটঃ কানিজ ফাতেমা


