সন্তানকে জ্বর- ঠান্ডা থেকে বাঁচিয়ে রাখার কিছু পন্থা
সন্তানের যেসব অসুখ বিসুখ নিয়ে বাবা মায়ের দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে অন্যতম হলো জ্বর, সর্দিকাশি ও ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন সমস্যা। বেশিরভাগ শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু সবচেয়ে বেশি ভুগে থাকে এই সমস্যায়।কত ডাক্তার, কত ওষুধ কিন্তু কাজ করছে না কিছুই- বাবা মা এর এই দুশ্চিন্তার শেষ নেই কখনোই। আর একটি কথা সবসময়ই বলা হয় “প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ শ্রেয়”। তাই আজ জেনে নিন কি করে আপনার সন্তানকে জ্বর ও ঠান্ডাজ নিত বিভিন্ন সমস্যা থেকে দূরে রাখতে পারবেনঃ
(১) হাত ধোয়ার অভ্যাসঃ নোংরা ও অপরিষ্কার হাত ঠান্ডার জীবানু সংক্রমনের অন্যতম প্রধান কারন। আপনার ও আপনার পরিবারের সকলকে সাবধান করুন কেউ যাতে কখনো নোংরা বা অপরিষ্কার হাতে আপনার সন্তানকে স্পর্শ করতে না পারে। নিজেও এ ব্যপারে বিশেষ সচেষ্ট হোন। আর সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে তাকেও প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
(২) জীবানুমুক্ত ঘরঃ শিশুর চারপাশের পরিবেশ জীবানুমুক্ত রাখতে সচেষ্ট হোন। শূন্য থেকে এক বছর য়সে শিশু যেকোন জীবানুর সংস্পর্শে খুব তাড়াতাড়ি সংক্রমিত হতে পারে। আর এর চেয়ে কিছুটা বড় হলে শিশু না বুঝেই অনেক কিছু মুখে দিতে পারে যা তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই শিশুর চারপাশের পরিবেশক, বিভিন্ন আসবাব ও জিনিসপত্রকে যথাসম্ভব জীবানুমক্ত রাখুন।
(৩) টিকা দিন সময়মতোঃ ফ্লু, টাইফয়েড ও বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আপনার সন্তানকে আগেভাগেই দিন যাতে সে সংক্রমিত হতে না পারে। এতে আপনার সন্তান থাকবে সুরক্ষিত আর আপনি থাকতে পারবেন নিশ্চিন্ত।
(৪) ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশঃ বিভিন্ন ধোঁয়া শিশুর শরীরে মারাত্বক খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এক পরিক্ষায় দেখা গেছে, যেসব শিশু সিগারেটের ধোঁয়ায় বড় হয় তাদের জ্বর ও ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। তাই শিশুর চারপাশে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিন্ত করুন।
(৫) দূরে রাখুন জীবানুর সংস্পর্শঃ শিশুর সংস্পর্শে এমন মানুষদের আসা প্রতিহত করুন যারা ওই সময় এই ঠান্ডা বা জ্বরের জীবানু বহন করছে। শিশুরা খুব দ্রুত সংক্রমিত হয় বলে এই ব্যবস্থার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে।
উপরোক্ত উপায়গুলো মেনে চললেই আপনি আপনার সন্তানকে এই জ্বর ও ঠান্ডা জনিত সমস্যা থেকে অনেকটাই দূরে রাখতে পারবেন।


