Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Jan 4, 2014 in হাটি হাটি পা |

সোনামনির হাঁটা শেখা

সোনামনির হাঁটা শেখা

সুকান্ত লিখেছিলেন, “এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান…”। হ্যাঁ, তাকে স্থান ছেড়ে দিতে হবে, সে বাঁচতে শিখবে, নিজেকে গড়তে শিখবে, পৃথিবীকে গড়তে শিখবে। তবে সবার আগে যা শিখবে, তা হচ্ছে কথা বলা এবং হাঁটা! সন্তানের জন্মের পর বাব-মা শিশুর যে অর্জনে সবচেয়ে খুশি হয় তা হচ্ছে কথা বলতে শেখা, নিজের সন্তানের মুখে বাবা-মা ডাক শুনতে। কিন্তু এরপরেই সবচেয়ে খুশির দৃশ্য হচ্ছে নিজের সন্তানকে হাঁটতে দেখা! প্রথম দিন হয়তো শিশু কিছু ধরে দাঁড়াতে শিখল, এরপর তা ছেড়ে দাঁড়াতে শিখল, এরপর নার্ভাস ভাবে এক পা বাড়াল, শেষে একদিন আপনার প্রসারিত করা বাহুতে ছুটে এলো! এই ছুটে আসাই তাঁর স্বাধীন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ।

 

জন্মের প্রথম বছরে শিশু তাঁর শরীরের হাড়, পেশী এবং নার্ভাস সিস্টেম সম্পূর্ণভাবে গড়ে তোলা এবং এদের মধ্যে সমন্বয় করণের কাজ করে। প্রথম দিকে শিশু বসতে শিখে, একপাশ থেকে অন্যপাশে গড়াতে শিখে, এরপর হামাগুড়ি দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে হাঁটতে শেখে। প্রথম নয় মাস লেগে যায় শিশুর দাঁড়াতে শিখতে এবং প্রায় দশমাস লাগে হাঁটা শিখতে। তাই বলা যায়, শিশু মোটামুটি নয় থেকে বারো মাসের মধ্যে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ফেলবে। পুরোপুরি দক্ষতার সাথে হাটা শিখতে শিশুর দুই বছরের মতো লেগে যায়। কোন কোন শিশুর ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ ফেলতে ১৭-১৮ মাস লেগে যায় এবং এটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে এর বেশি সময় লাগলে তা চিন্তার বিষয়।

 

আপনার সন্তানের পা নিজে নিজে দাঁড়ানোর এবং হাঁটার মতো শক্ত নয়। তবে আপনি যদি তাঁর বাহু উপরের দিকে ধরে তাকে কিছুটা ঝুলিয়ে পা ফ্লোরে রাখেন, তাহলে তাঁর পায়ের উপর খুব বেশি ওজন পড়বে না এবং সে তাঁর পা ধীরে ধীরে সামনের দিকে নাড়াতে শিখবে ও ভারসাম্য রক্ষা করতে শিখবে। মাটিতে শিশুর পা রেখে তাকে ধীরে ধীরে খুব আস্তে নাচানো হলে এটাও শিশুর পায়ের পেশী ও হাড় গঠনে সহায়তা করবে এবং শিশু এটা উপভোগও করবে।

 

নয় মাস সময়ে শিশু ঘরের আসবাব পত্র ধরে নিজে নিজে দাঁড়াতে শিখবে এবং এক বছর পূর্ণ হলেই সে নিজে নিজে হাঁটা শিখে ফেলবে। এক্ষেত্রে আপনি বেশ কিছু আসবাব পত্র একই সারিতে রাখতে পারেন যাতে সে ধরে ধরে এগোতে পারে। আপনি তাকে হাতে ধরে হাঁটা শেখাতে গেলে সে আপনার হাতকেই আঁকড়ে ধরে রাখবে, সামনে এগুবে না। তাই আপনি এক প্রান্তে তাকে আসবাব পত্র ধরে হাঁটতে দিয়ে অন্য প্রান্তে বাহু বাড়িয়ে রাখতে পারেন যাতে সে আপনার কাছে আসতে উৎসাহ পায়।

 

একটা সময় শিশু হাঁটতে শিখে যাবে এবং তাঁর পেশী এবং হাড়ের গঠনও মজবুত হবে। তখন সে নিজে থেকেই বসা থেকে উঠে হাঁটতে পারবে এবং হাঁটা বন্ধ করে আত্মবিশ্বাসের সাথে বসতে পারবে। পরবর্তী ধাপে শিশু হাঁটা অবস্থায় বসে হাতে তাঁর খেলনা নিয়ে হাঁটতে শিখবে।