বহুগর্ভধারণ বা যমজ বাচ্চা
একের অধিক সন্তান একবারে গর্ভে এলে তাকে বলে বহুগর্ভধারণ। তা দুই, তিন বা পাঁচ, ছয় অথবা যেকোনো সংখ্যা হতে পারে। তবে বহুগর্ভধারণে সন্তানসংখ্যা যত বেশি, তাদের বাঁচার সম্ভাবনা সেই অনুপাতে তত কমে আসে। গড়ে প্রতি ৮০টা গর্ভধারণে একবার যমজ হয়। বংশে যমজ সন্তান থাকলেও যমজ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যারা ওষুধ খেয়ে গর্ভবতী হয়, তাঁদেরও যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আজকাল কৃত্রিম উপায়ে যে ভ্রূণসঞ্চার করা হয়, যাকে সাধারনত টেস্ট-টিউব বেবি পদ্ধতি বলে, সেখানেও খুব বেশি বহুগর্ভধারণের ঘটনা ঘটে।
বহুগর্ভধারণ কেন হয়?
দুই রকম কারনে বহুগর্ভধারণ হয়ে থাকে।
প্রথমত, কখনো ঘটনাক্রমে ডিম্বাশয় থেকে একাধিক ডিম্বকোষ ফুটে বের হতে পারে, এবং সব ডিম্বকোষ ভিন্ন ভিন্ন শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত হয়ে ভ্রূণে পরিণত হতে পারে, তারপর জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হয়ে বহুগর্ভধাণ হতে পারে। এদের বলা হবে সহোদর যমজ। কারন, এরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন সত্তা, ঘটনাচক্রে একই সময়ে একই জরায়ুতে অবস্থান নিয়েছে। এদের মধ্যে পরস্পরের সঙ্গে মিল-অমিল দুই-ই থাকতে পারে। এদের মিল-অমিল হবে একই সময়ে মা-বাবার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে জন্মানো বিভিন্ন সন্তানের মতো। কেউ ছেলে কেউ মেয়ে হয়ে জন্মাতে, চেহারা-সুরতে কিছু মিল কিছু অমিল থাকতে পারে। এদের ক্রোমোজমের বিন্যাসে কিছু পার্থক্য থাকবে।
দ্বিতীয়ত, ‘অভিন্ন যমজ’ হয় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। ডিম্বকোষ স্ফুটন হওয়ার সময় একটা ডিম্বকোষই ফুটে বের হয়। সেই ডিম্বকোষ এক্ট শুক্রাণু দিয়েই স্বাভাবিকভাবে নিষিক্ত হয়ে ভ্রূণে পরিণত হয়। এককোষী ভ্রূণের বিকাশক্ষমতা অসীম। কথাটার অর্থ হলো, একদম প্রথম দিকে ভ্রূণের বিকাশ-সম্ভাবনা এতটাই প্রবল থাকে যে সেই এককোষী ভ্রূণ শরীরের যেকোনো অঙ্গপ্রতঙ্গ উৎপাফন করতে পারে; এমনকি নিজে ভেঙ্গে গিয়ে দুই বা ততোধিক পূর্ণাঙ্গ ভ্রূণ বা শিশুও উৎপাদন করতে পারে। অভিন্ন যমজের বেলায় সেই ঘটনাটাই ঘটে। একদম প্রাথমিক পর্যায়ে অসীম বিকাশ ক্ষমতা সম্পন্ন একটা স্বাভাবিক ভ্রূণ ভেঙ্গে গিয়ে দুই বা ততোধিক ভ্রূণ হয়ে যায়, সেখান থেকে অভিন্ন যমজের সৃষ্টি হয়। একটা ভ্রূণ থেকে আসার কারনে এদের ক্রোমোজমের বিন্যাস বা জিনের বিন্যাস হুবহু এক রকম হয়। ফলে এদের লিঙ্গ, চেহারা-সুরত, মন-মানসিকতা একেবারে এক রকম হয়। এদের আলাদা করে চেনাই দুঃসাধ্য, যেন পরস্পর পরস্পরের প্রত্তিবিম্ব। আসলে এরা তো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একক সত্তা।


