Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Jan 19, 2014 in গর্ভবতী মা |

গর্ভবতী মায়ের চাই সুষম খাদ্য

গর্ভবতী মায়ের চাই সুষম খাদ্য

গর্ভাবস্থায় মা ও তার অনাগত শিশুর সুস্থতার জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত খাদ্য ব্যবস্থা। গর্ভের শিশুর বেড়ে ওঠা নির্ভর করে তার মায়ের পরিমিত খাদ্য ব্যবস্থার ওপর। শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন প্রায় ৩০০ ক্যালরি খাদ্য অতিরিক্ত গ্রহণ করা উচিৎ। কোন খাবারটি খেতে হবে ও কোনটি বর্জন করতে হবে তা ভালোভাবে জানা প্রত্যেক গর্ভবতী মায়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি। মায়ের প্রয়োজনীয় খাদ্যের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

 

ক্যালসিয়াম :

ক্যালসিয়াম শিশুর হাড়ের গঠনে ও মায়ের হাড়ের ক্ষয়রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিলে তা দূর করে। শিশুর জন্মের আগে ও পরে- প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১০০০ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহন করতে হবে। গর্ভবতী মায়ের দিনে কমপক্ষে ৩ গ্রাম লো-ফ্যাট দুধ খাওয়া দরকার। ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার-দুধ, দই, বাদাম, ডিম, সামুদ্রিক মাছ, পালংশাক, মাংস ইত্যাদি।

 

আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য :

গর্ভের শিশুর জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনের সরবরাহ ও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে প্রতিদিন ২৭ মি. গ্রাম আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ। আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের উল্লেখযোগ্য উৎস হল- ডিমের কুসুম, মাছ, ডাল, কলিজা,  পালংশাক, কুমড়া, মুরগীর মাংস,সয়াবিন, আঙ্গুর, মিষ্টি আলু, কমলা, বাদাম, তরমুজ, ইত্যাদি।

 

ভিটামিন সি :

একজন গর্ভবতী মহিলার দিনে ৭০ মি. গ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন সি প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্তত একটি ভিটামিন সি যুক্ত সবজি বা ফল খেতে হবে। যেসন খাবারে ভিটামিন সি আছে সেগুলো হল-লেবু, আমলকী, পেয়ারা, পেঁপে, কমলা, স্ট্রবেরী, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, টমেটো ইত্যাদি। তবে মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত ভিটামিন সি শিশুর গঠন ব্যাহত করে ও জরায়ুর সংকোচন ঘটায়।

 

এসিড :

গর্ভবতী মায়ের রোজ ০.৪ মি. গ্রামের মত ফলিক এসিড দরকার। ফলিক এসিড নিউরাল টিউবের কোষের অসংগতি দূর করে। এই এসিডের উল্লেখযোগ্য উৎস হল-কমলা, পালংশাক, কলা, লেটুসপাতা,  টমেটোসহ সবুজ শাক-সবজি এবং মুরগির কলিজা।

 

ভিটামিন এ :

একদিন অন্তর নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিটামিন এ গ্রহন করতে হবে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন এ খেলে ভ্রুণের গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে আর ভিটামিন এ যুক্ত খাবার হচ্ছে-মিষ্টিকুমড়া, গাজর, মিষ্টি যেকোন সবুজ শাক, লাল শাক, আলু ইত্যাদি।

 

ক্যালরিযুক্ত খাদ্য :

সুস্থ শিশু জন্মদানের জন্য গর্ভবতী মায়ের অতিরিক্ত প্রায় ৫৫,০০০ ক্যালরি প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ গর্ভবতী মা’কে দিনে স্বাভাবিকের অতিরিক্ত ৩০০ ক্যালরি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

 

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও পানি জাতীয় খাবার :

গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি খাবার পানি ও অন্যান্য তরল খাদ্য গ্রহণ করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীভূত হয় এবং শরীরে রক্তের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। এই রক্তের মাধ্যমেই পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেন মায়ের শরীর থেকে গর্ভের শিশুর শরীরে পৌঁছায়। বিভিন্ন তরল খাদ্য যেমন- দুধ, ফলের রস ইত্যাদি ও পর্যাপ্ত পানি নিয়মিত পান করতে হবে।