গর্ভকালীন সময়ে রোজা রাখার নিয়ে কিছু কথা
দেখতে দেখতে আবার এলো রমজান মাস। রোজা রাখা নিয়ে এসময়ে গর্ভবতী মায়েদের কপালে বেশ চিন্তার ছাপ পরে। অনেকেই রোজা রাখতে চান আবার সন্তানের কোন সমস্যা হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিত ধারণা পোষন করেন। প্রকৃতপক্ষে রোজা রাখা যাবে কি যাবেনা এ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কোন কিছু বলা সম্ভব নয়। সব নির্ভর করছে আপনার ও আপনার গর্ভের সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর। তবু এ সময়ের গুরত্বপূর্ণ কিছু বিষয় সম্পর্কেই আজকের আলোচনা।
• রোজা রাখা কি সন্তান ও মায়ের জন্য নিরাপদ?
এটি পুরোটাই নির্ভর মায়ের স্বাস্থ্যের উপর। মা যদি নিজেকে রোজা রাখার ব্যপারে সক্ষম মনে করেন তবে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা পালন করতে পারেন। তবে যদি শরীর খারাপ থাকে, দুর্বল লাগে তবে ইসলামিক বিধানেই রোজা না রাখার ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ন ব্যপার হলো এখন গরমের সময় হওয়াতে রোজা রাখার ফলে মায়ের ডিহাইড্রেশনের সম্ভাবনা আছে। এটিও মায়ের বিবেচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
• রোজা রাখার আগে মাথায় রাখার তিনটি বিষয়ঃ
১। গর্ভকালীন সময়ে আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা, চিকিৎসকের পরামর্শ,
২। গর্ভকালীন সময়ের আগের স্বাস্থের অবস্থা,
৩। গর্ভকালীন ধাপ (শিশুর গর্ভকালীন বয়স),
৪। রোজার ব্যাপ্তি আব সময়কাল
এসব বিষয়গুলো আপনার চিকিৎসকের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
• প্রস্তুতির কিছু বিষয়ঃ
১। নিয়মিত চেক-আপের সময় নির্ধারন করা, এসময় সাধারণ গর্ভকালীন সময়ের চেয়ে বেশি সময় চেক-আপ করা প্রয়োজন। ডায়বেটিস থাকলে গর্ভকালীন সময়ে রোজা রাখা একেবারেই পরিহার করা উচিৎ।
২। মায়ের বিশ্রামের জন্য বেশি সময় রাখা যায় এভাবেই নিত্যদিনের কার্যক্রম ঠিক করা,
৩। কেনাকাটার বিষয়টি রোজার আগেই সেরে রাখা।
• যেসব ক্ষেত্রে অতিসত্ত্বর নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শঃ
১। গর্ভকালীন ওজন ঠিক না থাকলে বা ঠিকমতো না বাড়লে,
২। সব সময় খুব বেশি তৃষ্ণার্ত অনুভব করলে (এটি ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ)
৩। মাথা ব্যথা, জ্বর, শরীরের ব্যথা অনুভব করলে,
৪। খুব বেশি বমি হলে,
৫। শিশুর নড়াচড়া পূর্বের মতো না হলে কিংবা কোন পরিবর্তন অনুভব করলে।
• কি করে এসময় রোজা রাখা সহজ হবে?
১। নিজেকে চাপমুক্ত ও শান্ত রাখতে চেষ্টা করুন,
২। প্রয়োজনে পরিবারের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে কাজ সম্পন্ন করুন তবে নিজেকে দুশ্চিন্তার মধ্যে রাখবেন না।
৩। যতটা সম্ভব শরীর ঠান্ডা রাখতে চেষ্টা করুন যাতে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা না হয়,
৪। খুব বেশি হাঁটা-চলা ও ভারী কাজ থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন।
সর্বোপরি রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের ও শিশুর স্বাস্থ্যের ব্যপারে ভাবুন ও সচেতন হোন।


