আপনার বাচ্চার কান্না থামাতে খেয়াল রাখুন কিছু জিনিস!
একজন মেয়ের জীবনের সব থেকে আনন্দের অনুভুতি যখন সে মা হয়। যখন সে তার সদ্যজাত শিশুর প্রথম কান্না শোনে সেই মুহূর্ত তার জীবনে পরিপূর্ণতা এনে দেয়। কিন্তু সেই দুষ্টু সোনামণি যখন সারা রাত কেঁদে কেটে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেয় তখন তাকে শান্ত রাখাটাই সব থেকে মুশকিলের কাজ।
ধরুন গভীর রাত, চারিদিকে সুনশান। সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে আপনি প্রগাড় ঘুমে আচ্ছন্ন। এমন সময় অ্যালার্ম ঘড়ির মত রাত ৩ টায় আপনার প্রিয় সন্তান কেঁদে উঠল। তখন আপনাকেই উঠে তাকে শান্ত করতে হবে যাতে নির্বিঘ্নে আপনি বাকি রাতটা ঘুমাতে পারেন। এই অসময়ের কান্না অনেক শান্ত প্রকৃতির বাবা-মা ও অনেক সময় সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু না রেগে শিশুকে শান্ত করে আবার ঘুম পাড়াতে হবে কারণ ঘুম সন্তান এবং বাবা-মা সবার জন্যই দরকারী।
বাচ্চাকে শান্ত করতে সে যেটা চায় তাকে সেটা দিতে হবে। এমন নয় যে বাচ্চা শুধু মজা করার জন্য কেঁদে উঠেছে বা কাজ খুজে না পেয়ে কেঁদে উঠেছে। হয় সে দুধ খেতে চাচ্ছে বা তার ডায়াপার ভিজে গেছে। আগে ডায়াপার পরীক্ষা করুন। সেটা ভেজা থাকলে বদলিয়ে দিন আর যদি সেটা শুকনা থাকে তাহলে তাকে খেতে দিন। যদি এর কোনোটাই না হয় তাহলে তাকে কিছুক্ষন কোলে রাখুন বা দোলনায় দোলান, হয়ত সে ভয় পেয়েছে।
বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আস্তে আস্তে দোলানো তাকে শান্ত করার সব থেকে ভালো উপায়। শীতকাল হলে ভালো করে তাকে গরম কাপড় দিয়ে পেচিয়ে রাখুন কারণ শীতের কারনেও বাচ্চা কেঁদে উঠতে পারে। ছোট্ট শিশু কথা বলতে পারে না তাই সে জানাতেও পারেনা তার চাহিদা। তার একমাত্র সম্বল তার কান্না। আর সাধারণত তার চাহিদা মিটে গেলে সে এমনিতেই কান্না থামিয়ে দেয়। অনেক সময় শিশুকে গান শোনালে বা হাল্কা সুরে কথা বললেও সে কান্না থামিয়ে দেয়। শিশুরা জন্মের পর থেকেই তার মা কে চিনতে পারে আর তার কাছ থেকে নরম সুরে কথা শুনলেও শিশুরা কান্না থামিয়ে দেয়।
তবে অনেক সময় শারীরিক কোন সমস্যা হলেও শিশু অনেক কান্নাকাটি করে, যেহেতু সে বলে বুঝাতে পারছে না তার কি সমস্যা হচ্ছে। তাই সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও যদি শিশু অনবরত কাঁদতে থাকে তাহলে দেরি না করে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।


