শিশুর প্রথম বছরে গরুর দুধ কেন নয়?
গরুর দুধ পৃথিবীর পুষ্টিকর খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এই গরুর দুধ মানুষের শরীরের প্রধান সব উপাদানগুলোর অন্যতম যোগানদাতা। কিন্তু এতসব গুনের পরেও শিশুদের জন্মের পর প্রথম বছরে গরুর দুধ খাওয়ানো উচিৎ নয়। কি কি কারণে শিশুর প্রথম বছরে গরুর দুধ খাওয়ানো থেকে অভিভাবকদের বিরত রাখতে বলা হয় চলুন জেনে নেওয়া যাকঃ
১। গরুর দুধে শ্বেতসারের পরিমাণ ৪.৭ গ্রাম যা মায়ের দুধে ৭.১ গ্রাম পরিমাণে থাকে। মায়ের দুধে এই উপাদান বেশ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে বলে এ থেকেই শিশুর স্বাস্থ্য এবং বুদ্ধিবৃত্তি গঠিত হয়।তাই এইসময় শিশুকে গরুর দুধ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
২। গরুর দুধে খুব বেশি পরিমাণে আমিষ বা প্রোটিন থাকে এবং এতে ক্যাসিনেরও আধিক্য রয়েছে যা শিশুদের তন্ত্রে প্রদাহ কিংবা মলে রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মায়ের দুধের প্রোটিনের পরিমাণই এই সময়ের জন্য পর্যাপ্ত।
৩। গরুর দুধে চর্বির পরিমাণ মায়ের দুধের চেয়ে কম। এছাড়া এতে শিশুর জন্য অতীব প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিডসমূহ থাকে না।
৪। গরুর দুধে সোডিয়ামের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। এছাড়া শিশুর শরীরে শোষিত হবার মত আয়রনের মাত্রা অনেক কম থাকে। এতে গরুর দুধ পান করলে এই বয়সী শিশুর রক্তস্বল্পতার শিকার হয়।
৫। মায়ের দুধ না দিয়ে শিশুকে গরুর দুধ দিলে গরুর দুধে যেসব রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান থাকেনা যেমন লিউকোসাইট, ম্যাঙ্গানেজ, নিউট্রোফিল এসব উপাদানের ঘাটতি শিশুর শরীরে দেখা যায়।


