Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on May 27, 2014 in গর্ভধারণ, জেনে রাখা ভাল |

গর্ভধারণ: মায়ের বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন অবস্থা (পর্ব-এক)

গর্ভধারণ: মায়ের বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন অবস্থা (পর্ব-এক)

গর্ভবতী মায়েদের বয়সের উপর তাঁদের শারীরিক অবস্থা ও গর্ভধারণের গতি প্রকৃতি অনেক কিছুই নির্ভর করে থাকে। সাধারণত মেয়েদের একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত গর্ভধারণের ব্যপারে তেমন কোন জটিলতা দেখা যায়না তবে তারপরেই শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা দেখা যায় যার কারণে গর্ভধারণ প্রক্রিয়াতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। তাই জেনে নিন বয়স অনুযায়ী গর্ভধারণের বিভিন্ন অবস্থা।

বয়স যখন বিশ থেকে চব্বিশ:

এ বয়স একজন নারীর শরীর গর্ভধারণের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী থাকে কারণ এসময় ঋতুস্রাব অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে এবং মোটামুটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একজন নারী এ বয়সে তার যখন সুবিধা ও সুযোগ থাকে তখনি গর্ভধারণ করতে পারবেন। এসময় গর্ভধারণ করলে উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের সমস্যা পড়ার সম্ভাবনা অনেক কম। মানসিক অবস্থাও মোটামুটি ঠিক থাকে এই বয়সে। এ বয়সে গর্ভপাতের সম্ভাবনা শতকরা ৯.৫ ভাগ। শতকরা ৫২৬ জন শিশুর মধ্যে একজন শিশু এসময়ে জীনগত সমস্যা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। তবে গর্ভধারণের জন্য এই বয়সকেই সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়।

বয়স যখন পঁচিশ থেকে ত্রিশের কোঠায়:           

যদি আপনি আপনার শরীরকে ভালো খাদ্যাভ্যাস ও উপযুক্ত ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজেকে সুস্থ রাখতে পারেন, তবে এই বয়সে ভালোভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন এবং সন্তান জন্মদানের পরেও নিজেকে ফিট রাখতে পারবেন। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, এই বয়সের মধ্যে গর্ভধারণ করলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কম থাকে। এসময় গর্ভপাতের সম্ভাবনা শতকরা ১০ শতাংশ যা আগের বয়সসীমার ঝুঁকির চেয়ে অল্প পরিমাণে বেশি। এ বয়সের মায়েদের ক্ষেত্রে শতকরা ৪৭৬ জনের মধ্যে একজন শিশুর জীনগত সমস্যা হতে পারে।

বয়স যখন ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ:

মায়ের সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমতে শুরু করে ত্রিশের শুরু থেকে। এসময় সাধারণত প্রাকৃতিক উপায়ে শিশু জন্ম নেওয়ার চেয়ে অস্ত্রোপচার এর মাধ্যমেই জন্ম নিয়ে থাকে বেশি যা শিশুর ও মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর হতে পারে। এসময় সাধারণত সন্তান ধারণের চেয়ে আগের সময়ে সন্তান ধারণ করে এসময় তাঁদের বড় করার দিকেই বেশি মনোযোগ থাকে নারীদের। এসময় গর্ভধারণের সময় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদির হারও থাকে অনেক বেশি। এসময় সন্তান ধারণ করে পরে স্বাভাবিক জীবনে ঠিকমত ফিরে আসতে পারবে কিনা এ ব্যাপারেও সংশয় থেকেই যায়। এসময় গর্ভপাতের পরিমাণও বেড়ে যায়। সুস্থ শিশুর জন্মদানের ক্ষেত্রেও থেকে যায় আশংকা। এ সময় গর্ভপাতের সম্ভাবনা শতকরা প্রায় ১২ শতাংশ, এছাড়াও শিশু বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে থাকে।