Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on May 7, 2014 in ছোট্টমনি, জেনে রাখা ভাল, হাটি হাটি পা |

শিশুর মানসিক বৃদ্ধিতে আপনার করণীয়

শিশুর মানসিক বৃদ্ধিতে আপনার করণীয়

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা  এ নিয়ে বাবা-মা এর চিন্তার শেষ নেই। মাসে মাসে শিশুর বৃদ্ধি কতটা হলো, ওজন কতটা বাড়লো তা তো  বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় সহজেই, তাই প্রতিকারও নেওয়া যায় সেই হিসেবেই। কিন্তু মানসিক বৃদ্ধি? তা কি করে বুঝবেন বাইরে থেকে?

একটি শিশু জন্মের সময় শুধু নিঃশ্বাস নিতেই শেখে, পরে তার চারপাশের সব পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে নিজেকে তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারাটাই শিশুর মানসিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে। দুই বছর পর্যন্ত সময়টা শিশুর মানসিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়সভেদে কিভাবে শিশুর মানসিক বৃদ্ধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন তার কিছু নমুনা দেখে নেইঃ

শিশুর বয়স যখন শূন্য থেকে তিন মাসঃ জন্মের পরপর শিশু শুধুমাত্র আওয়াজ শুনতে পায় ও দেখেতে পায় চারদিকের পরিবেশকে। ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সে বুঝতে পারেনা কার সাথে আছে সে। বাবা-মা কিংবা কাছের মানুষ কে শিশু চিনে নিতে শেখে এই সময়।

তিন থেকে ছয় মাসঃ এই সময় শিশু বিভিন্ন বিষয় বুঝতে শেখে। সে বিভিন্ন বিষয় ও বিভিন্ন মানুষের মাঝে পার্থক্য বুঝতে শেখে। খেলনা কিংবা আকর্ষনীয় কিছু দেখলে হাসতে শেখে, মা-বাবাকে জানান দিতে শেখে তার বিভিন্ন প্রয়োজন নিয়ে। শিশুর বয়স ছয় মাসের কোঠায় পৌছালে সে তার খুশি ,আনন্দ দুঃখ আস্তে আস্তে বুঝতে শেখে, আনন্দময় কিছু দেখলে হাসতে শেখে।

সাত মাস থেকে এক বছরঃ এই সময়ে শিশু ধীরে ধীরে নিজের বিভিন্ন দিক প্রকাশ করতে থাকে।মা-বাবার সাথে খেলা করতে করতে লুকিয়ে পড়া, ভান করা, অনুকরণ করা এসব বৈশিষ্ট্য এই সময় থেকেই প্রকাশ পেতে থাকে। নিজের নামে সাড়া দেওয়া, মনোযোগ দিয়ে  টেলিভিশন দেখা এসব দেখে বুঝতে পারবেন যে আপনার শিশু বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই হচ্ছে।

বয়স যখন এক থেকে দেড় বছরঃ এই সময়ে শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই অনেক দ্রুত হয়ে থাকে। সে সবকিছু নিয়ে জানতে চায়, সে বুঝতে চায় তার চারপাশের পৃথিবীকে। বিভিন্ন সমস্যা যেমন খেলনা ভেঙ্গে যাওয়া, পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাওয়া এসব ছোটখাট সমস্যার সমাধান একাই করতে চেষ্টা করে, গুছিয়ে কথা বলতে চেষ্টা করে।

শিশু যখন দুই বছরের কোঠায়ঃ শিশুর এই বয়সে সে নিজের খাবার নিজে খেতে চেষ্টা করে, বাবা-মা কিংবা কাছের মানুষের কার্যকলাপ নকল করতে শেখে, মেয়ে শিশু আর ছেলে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন খেলার প্রবনতা এই সময়েই দেখা যায়।

আপনার শিশু যদি এভাবে এগুতে থাকে তাহলে বুঝে নিন আপনার শিশু মানসিকভাবে চাঙ্গা রয়েছে।তাই বয়সভেদে শিশুকে এ ধরনের কাজে উৎসাহিত করুন।