ট্যারা চোখের চিকিৎসা আছে
ট্যারা চোখ দেখতে খারাপ দেখায়, আর যেসব শিশু এ ব্যপারে সচেতন তারা হীনমন্যতায় ভোগে। ট্যারা চোখের শিশুদের স্বাভাবিক দ্বিনেত্র থাকে না অর্থাৎ দুইটি চোখে একসঙ্গে দেখতে পায় না, দুই চোখে আলাদাভাবে একই বস্তুর দুইটি প্রতিবিম্ব দেখে। মস্তিষ্ক দুই চোখের আলাদা প্রতিবিম্বের সমন্বয় ঘটানোর ঝামেলা এড়াতে যে চোখটি বাঁকা, সেই চোখ থেকে দৃষ্টি গ্রহন করতে চায় না। যে চোখটি সোজা তার দৃষ্টিই মস্তিষ্ক গ্রহন করে। এভাবে বাঁকা চোখটি অব্যবহৃত থাকে এবং অলস চোখের জন্ম দেয়। এটি খুবই গুরুর্তপূর্ণ সমস্যা। এছাড়াও যে সমস্ত পেশির সাহায্যে আমরা চোখ (অক্ষি গোলক) উপর-নিচে, ডানে-বায়ে ঘোরাই, তার যে কোন একটির পক্ষাঘাত হলেই চোখ ট্যারা হতে পারে। দুইটি চোখের যেকোন এক্টির দৃষ্টি খুব কম হয়ে গেলেও (প্রতিবিম্বিত দর্শন প্রক্রিয়ায় সমস্যা/ রিফ্লেকটিভ ইরর), ট্যারা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
চিকিৎসাঃ
শিশু যদি ট্যারা চোখ নিয়ে জন্মায় এবং জন্মমের ৪-৬ মাসের মধ্যেও যদি চোখ আপনা আপনি সোজা না হয় তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।
অনেক বাবা-মা সন্তানের ট্যারা চোখ থাকাকে সুলক্ষণ মনে করেন। চোখের ট্যারা অবস্থাটা যখন দিনে কখনো কখনো অস্থায়ীভাবে আবির্ভাব হয় তখন এটাকে অনেকে ‘লক্ষী’ ট্যারা বলে থাকে। অনেক মা-বাবার একটা ধারনা রয়েছে যে বয়সের সাথে সাথে ট্যারা নিজ থেকেই সেরে যায় অথবা ট্যারার কোন চিকিৎসা নেই। এ দুইটি ধারনাই সম্পূর্ণ ভুল।
শুরুতে অবহেলা না করে যদি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় তবে চোখের বিশেষ ব্যায়াম, আবরণ অথবা চশমা দিয়েই ট্যারা ভাল করা যায়। তা না হলে অপারেশনের সাহায্যে ট্যারা চোখ সারানো সম্ভব।


