কেমন হওয়া চাই নবজাতকের ঘর?
নবজাতকের জন্য দরকার খোলামেলা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। যে ঘরটির আশপাশ খোলামেলা এবং ঘরটির ভেতরে পর্যাপ্ত আলোবাতাস ঢোকে সে ঘরেই মা ও নবজাতকের থাকা উচিৎ। প্রতিদিন দিনের বেলা সব দরজা জানালা খুলে দিয়ে সেখানে মুক্ত আলো বাতাস চলাচল এবং সূর্যের আলো প্রবেশ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং দৈনিক কিছুটা সময়ের জন্য হলেও অবাধ আলো বাতাসের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। জানালার শার্শি কাঁচের হলে ভাল হয়, কেননা, বিশেষ করে শীতকালে জানাল বন্ধ থাকলেও আলো প্রবেশ করতে পারে। নবজাতকের ঘরে আসবাবপত্র কম রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অন্য ঘরে সরিয়ে নিতে হবে। পুরানো অব্যবহৃত আসবাবপত্রে, বস্তাবন্দি বইপত্রে ধূলাবালি ও পোকাপাকড় থাকার সম্ভাবনা থাকে। ঘরে কোন ফুলের বা চারা গাছের টদ, কেমিক্যালের খোলা পাত্র রাখা উচিৎ নয়। ঘরের মেঝে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও শুকনো রাখতে হবে।
শিশুর নজর লাগবে বা উপরি দোষ পড়বে এই ভয়ে শিশুর ঘরকে প্রায়ই বন্ধ অন্ধকার কুঠুরীর মত করে রাখা হয়, তদুপরি একই আশংকায় শিশুর ও মায়ের কাপড় চোপড় বাইরে রোদে না শুকিয়ে ঐ ঘরেই শুকোতে হয়। এতে ঘরের স্যাঁতস্যাঁত হয়ে পড়ে। এই আলোআঁধারি সাঁতস্যাঁতে ঘরে সহজেই রোগজীবাণুর প্রাদূর্ভাব ঘটে, ফলে শিশু সহজেই রোগাক্রান্ত হয়। আমাদের দেশে এমনি ভাবেই মা ও শিশুকে প্রায় ৪০ দিন আবদ্ধ করেরাখা হয়। প্রকৃতপক্ষে এ ব্যবস্থা একটি কুসংস্কার, যা সম্পূর্ণ ভুল ও বিপজ্জনক। শিশুর ঘরে ধোঁয়া দেয়া যাবে না আর ধুমপান করার তো প্রশ্নই আসে না। শিশুকে ঘরে রেখে সুগন্ধি, এয়ার ফ্রেশ্নার বা মশার ওষুধ স্প্রে করা যাবে না। যদি একান্তই তার প্রয়োজন পড়ে সেক্ষেত্রে স্প্রে করার সময় শিশুকে ঘর থেকে বের করে রাখতে হবে এবং স্প্রে করার ১০-১৫ মিনিট পর শিশুকে ঘরে আনতে হবে।


