Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Dec 28, 2013 in স্কুলের পথে |

বাংলা মাধ্যম না ইংরেজী মাধ্যম, আপনার সন্তান কিসে পড়বে?

বাংলা মাধ্যম না ইংরেজী মাধ্যম, আপনার সন্তান কিসে পড়বে?

সন্তানের বয়স ৪/৫ বছর হলে বাবা-মার মনে ভাবনার উদয় হয় বাচ্চার পড়াশোনা নিয়ে। দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত অভিভাবকেরা যেহেতু ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা ব্যবস্থার খরচ পুষিয়ে উঠতে পারেন না, তাই চোখ বন্ধ করেই সন্তানকে বাংলা মাধ্যমের স্কুলে ভর্তি করে দেন। তবে অনেক উচ্চবিত্ত অভিভাবক এবং ইদানীং মধ্যবিত্ত অভিভাবকরাও সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ভর্তি করে দিচ্ছেন। তবে অনেক অভিভাবকই দ্বিধায় ভোগেন যে কোন মাধ্যমে পড়ালে সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

 

কোন মাধ্যমে পড়ানোর আগে আপনার নিশ্চিত হওয়া চাই আপনি আসলে সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে কি চাচ্ছেন, সন্তানের কাছে কি চাচ্ছেন, সন্তানের ভবিষ্যৎ কি আশা করছেন এবং যে মাধ্যমে পড়াতে চাচ্ছেন সে মাধ্যম এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে দিতে পারছে কিনা! আসুন বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যাক।

 

ইংরেজি মাধ্যমের বইগুলো সাধারণত বাইরের দেশের কারিকুলাম অনুসরণ করে। যেহেতু উন্নত বিশ্বের কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়, তাই বইগুলোতে তথ্যসমূহ হালনাগাদকৃত থাকে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার কারণে শিশুর বৈশ্বিক ভাষা বা ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা’ ইংরেজির উপর ভালো দখল থাকে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা এবং সাহিত্য ছাড়া অন্যান্য সকল বিষয় ইংরেজিতে পড়ানো হয়। ফলে ইংরেজি ভাষায় অধিক দখল থাকলে এইসকল বিষয় পারঙ্গম করা সহজতর হয়। আপনার সন্তান যদি পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরের দেশে যেতে চায় তাহলে এই মাধ্যমের শিক্ষা পদ্ধতি যথেষ্ট উপকারে আসবে। এছাড়াও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্বের শিক্ষা পদ্ধতির অনুসরণ করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা সর্বাধুনিক শিক্ষা পেয়ে থাকে।

 

তবে ইংরেজি মাধ্যমের বইগুলোতে যে কারিকুলাম অনুসরণ করা হয় তা বিদেশী হওয়ায় বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং অর্জন সকল কিছুই বইগুলোতে উপেক্ষিত থাকে। ফলে শিশুরা দেশে ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকে যায়। এছাড়াও অনেক প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে বাংলাভাষা শেখানো হয় না বলে অনেক শিশু বাংলা লিখতে পারে না। এছাড়াও ইংরেজি শিক্ষা মাধ্যমের কারিকুলামে ভিন দেশের সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয় বিধায় শিশুর নিজ দেশের ও সমাজের মূল্যবোধ বিবর্জিত হয়ে বেড়ে উঠার সম্ভাবনা থাকে।

 

অপরদিকে বাংলা মাধ্যমের বইগুলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সহজবোধ্য। বাংলা মাধ্যমের কারিকুলামে বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে বিশদ উল্লেখ থাকে। ফলে শিশুরা আপন দেশ এবং এর ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং অর্জন সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকে। এছাড়াও বাংলা মাধ্যমের বইগুলোতে নিজের দেশের সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় যা শিশুদের নিজ দেশের এবং সমাজের মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করা তোলে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করানো হয়, তবে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা সফল ভাবেই এই ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে এবং বিদেশেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করছে। তাই ভাষা এইক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় নি।

তবে বাংলা মাধ্যমের কারিকুলামে তথ্য এবং জ্ঞান অনেক সময় হালনাগাদ করা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা পুরনো ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠে। এছাড়াও বাংলা মাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলোর পড়াশোনার পদ্ধতি বেশ আগের হওয়ায় শিশুরা আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বঞ্চিত হয়।

 

আপনি কোন মাধ্যমে আপনি শিশুকে পড়াবেন তার সিদ্ধান্ত নেয়া আপনার জন্য আরও কঠিন হয়ে গেলো! তবে যেহেতু বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও শেষ বিচারে পিছিয়ে নেই বরং অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে, তাই বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগ