Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Dec 21, 2013 in স্কুলের পথে |

আপনার সোনামণির দাঁত এবং মাড়ির যত্ন

আপনার সোনামণির দাঁত এবং মাড়ির যত্ন

আপনার শিশুর দাঁত উঠার আগে থেকেই তার দাঁতের মাড়ির যত্ন নেওয়া শুরু করুন। মাড়ির যত্ন নিতে প্রতিদিন গোসলের সময় তার দাঁতের মাড়ি নরম এবং আর্দ্র গজ বা কাপড়ের টুকরো দিয়ে মুছে ফেলুন। এই ক্ষেত্রে কোন টুথপেস্ট ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কাপড়ের টুকরোকে আপনার আঙ্গুলে সুন্দর করে পেঁচিয়ে নিন এবং তারপর যত্নের সাথে আস্তে করে তার মাড়িতে ঘষুন।

 

মুখে ব্যাকটেরিয়া থাকলেও তা মাড়িতে আক্রমণ করতে পারে না যতক্ষণ না দাঁত উঠে। তবে কখন দাঁত উঠা শুরু করবে এটা বলা কঠিন এবং তাই তাড়াতাড়ি মাড়ি পরিষ্কার করার প্রচেষ্টা নেওয়াই শ্রেয়। আপনার শিশুকে প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার করায় অভ্যস্ত করে তুললে এটা তাকে পরে নিয়মিত দাঁত ব্রাশেও অভ্যস্ত করে তুলতে সহায়তা করবে।

 

শিশুর দাঁত ব্রাশের সর্বোত্তম উপায়

 

সাধারণত ৬ মাসের মাথায় শিশুর দাঁত উঠতে শুরু করে। এই সময় শিশুর দাঁত ব্রাশ করাতে ছোট মাথা বিশিষ্ট এবং সহজে ধরা যায় এমন টুথব্রাশ নির্বাচন করুন। কিছু ক্ষেত্রে শিশুর দাঁত দেরিতে উঠতে শুরু করে। কোন কোন শিশুর ক্ষেত্রে দাঁত উঠতে ১৫ থেকে ১৮ মাস লেগে যায়। যদি আপনার শিশুর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে, তাহলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, এটা সম্পূর্ণই স্বাভাবিক ব্যাপার।

 

শিশুর দাঁত ব্রাশের ক্ষেত্রে কিছু পরিমাণ ফ্লোরাইড ব্যবহার করা শ্রেয়। অধিক পরিমাণ ফ্লোরাইড ব্যবহার থেকে সতর্ক থাকতে নিম্নলিখিত পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন।

 

প্রতিদিন দু’বার আপনার শিশুর প্রতিটি দাঁত ভেতরের এবং বাইরের দিকে ব্রাশ করুন। যদি আপনার শিশু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে  তাহলে তার জিহ্বাও ব্রাশ করতে পারেন। এটা মুখের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া দূর করতে কার্যকর। তবে যেহেতু আপনি সামান্য পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করছেন, তাই দাঁত ব্রাশের পর কুলি করানোর দরকার নেই।

 

ব্রাশের ব্রিস্টলগুলো মলিন বা এবড়ো থেবড়ো হয়ে গেলে ব্রাশ পরিবর্তন করুন। অনেক ক্ষেত্রে ব্রাশ দিয়ে দাঁতের মধ্যবর্তী স্থান পরিষ্কার করা যায় না। সেক্ষেত্রে অনেক সময় ডেন্টিস্টগণ সুতো দিয়ে ফ্লসিং করার কথা বলে থাকেন। তবে তা খুব বেশি ফলদায়ক নয়।

 

সামান্য পরিমাণ ফ্লোরাইড ব্যবহারে আপনার শিশু উপকৃত হতে পারে। ফ্লোরাইড দাঁতের এনামেল সংগঠিত করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং এসিডের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে। এভাবে এটি দাঁতের ক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কিছু টুথপেস্ট এবং পানিতেও ফ্লোরাইড পাওয়া যায়।

 

তবে উল্লেখ্য যে, ছয় মাসের আগে আপনার শিশুর মুখে পানির স্পর্শ লাগতে না দেয়াই শ্রেয়। ততদিন পর্যন্ত পানির চাহিদা শিশু মায়ের বুকের দুধ থেকেই মেটাতে পারে। এছাড়াও আপনি যদি আপনার শিশুকে ফর্মুলা দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে পানির সাথে নগণ্য পরিমাণ ফ্লোরাইড মিশ্রিত করতে পারেন।

 

এখানে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, অতিরিক্ত পরিমাণ ফ্লোরাইড আপনার শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত ফ্লোরাইড মুখে ফ্লুরোসিসের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। প্রায় সকল শহরের পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পানিতে ফ্লোরাইড মিশিয়ে থাকে। আপনারকে সরবরাহকৃত পানিতে মিশ্রিত ফ্লোরাইডের মাত্রা জানতে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন। যদি আপনি টিউবওয়েলের বা অন্যভাবে উত্তোলিত ভূগর্ভের পানি ব্যবহার করে থাকেন, সেক্ষেত্রে পানিতে ফ্লোরাইডের মাত্রা জানতে টেস্ট-কিট কিনতে পারেন। সাধারণত ফার্মেসি এবং হার্ডওয়্যারের দোকানে এই টেস্ট-কিট পাওয়া যায়।

 

পানিতে যদি ফ্লোরাইডের মাত্রা .৩ মিলিগ্রাম এর চেয়ে কম হয়, আপনার শিশুর চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন তার অতিরিক্ত ফ্লোরাইড প্রয়োজন আছে কিনা। সাধারণত শিশুদের জন্য .৩ মিলিগ্রাম ফ্লোরাইড আবশ্যক।  চিকিৎসক ফর্মুলা বা সিরিয়াল খাওয়ানোর সময় ড্রপ আকারে কিছু পরিমাণ ফ্লোরাইড যোগ করার পরামর্শ দিতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞগণ ছয় মাসের আগে সরাসরি ফ্লোরাইড সাপ্লিমেন্ট দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করে থাকেন। বোতল-জাত পানি এবং ফলের জুসে প্রয়োজনীয় ফ্লোরাইড পাওয়া যায় যা আপনার শিশুর জন্য যথেষ্ট।