গর্ভবতী মায়েদের জন্য বর্জনীয় খাদ্য!
একজন নারী যখন গর্ভবতী হয় তখন তাকে নিজের সাথে সাথে তার সন্তানের কথাও ভাবতে হয়। তাকে যেমন পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করতে হয় তেমনি কিছু খাবার বর্জনও করা উচিত। এসব খাবারের মধ্যে আছে:
সামুদ্রিক খাদ্য :
সামুদ্রিক মাছে পারদজাতীয় পদার্থ থাকে, যা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষতিকারক উপাদান হিসেবে কাজ করে। পারদ স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি সাধন করে। এ কারণে গর্ভবতী মায়েদের সপ্তাহে ১২ আউন্স বা তার বেশি সামুদ্রিক মাছ খাওয়া ঠিক নয়।
ক্যাফেইন :
গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইনযুক্ত খাবার যেমন-চকোলেট, কফি, চা এমনকি কোমল পানীয় খাওয়া বর্জন করা উচিত। দিনে ২০০ মি. গ্রাম বা তার বেশি ক্যাফেইন খাওয়া ঠিক না। ক্যাফেইন উচ্চমাত্রায় গ্রহণ করলে কম ওজন বিশিষ্ট শিশুর জন্ম হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ক্যাফেইন অকাল গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।
এলকোহল :
পানীয় হিসেবে এলকোহল বা এলকোহল জাতীয় ঔষধ গ্রহণে গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ছত্রাকের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত পনিরও গর্ভবতী মা ও তার শিশুর জন্য ক্ষতিকারক। পনিরের মধ্যে লিস্টেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারনে লিস্টেরিওসিস নামক ইনফেকশন হয়। এটি গর্ভপাত, জন্মের সময় শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী হতে পারে।
কাঁচা ডিম বা দুধ :
কাঁচা ডিম বা কম সিদ্ধ ডিমে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। এছাড়া ডিমের তৈরি ঘরে বানানো মেয়নেজ ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দুধ ভালভাবে ফুটিয়ে খেতে হবে।
স্যাকারিন :
গর্ভাবস্থায় স্যাকারিন বর্জন করা উচিত। স্যাকারিন প্লাসেন্টার ভিতর দিয়ে ভ্রুণের শরীরে পৌঁছে ভ্রুণের টিস্যুতে জমা হয়।
অতিরিক্ত ভিটামিন :
অতিরিক্ত ভিটামিন ‘এ’ গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক গঠন বাধাপ্রাপ্ত করে। আর অতিরিক্ত ভিটামিন ‘সি’ জরায়ুর সংকোচন ঘটিয়ে গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চমাত্রার মাল্টিভিটামিন গ্রহণ না করাই ভালো।
আনারস :
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে আনারস খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া আনারসে ব্রোমেলিয়ান নামক যে উপাদান আছে সেটি ডায়রিয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত। তাই গর্ভাবস্থায় আনারস খেয়ে ঝুঁকি না নেয়াই উত্তম।
অপরিষ্কার ফল ও সবজি :
যেকোন শাক-সবজি, ফল খাওয়ার আগে ভালভাবে ধুয়ে খেতে হবে। ফলের গায়ে লেগে থাকা মাটি বা ধূলা-বালিতে টক্সোপ্লাজমা নামক পরজীবী থাকতে পারে। এটি টক্সোপ্লাজমোসিস রোগের সৃষ্টি করতে পারে।
দূষিত মাছ :
কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত হয় এমন নদীর মাছে পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল মিশ্রিত থাকে। এ ধরনের পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর ক্ষতি হতে পারে।
শিশু জন্মের আগে একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে একটি সুস্থ্য সবল শিশুর জন্ম অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়। তাই মা ও শিশুর মঙ্গলের জন্য খাদ্য গ্রহনে এই সাবধানতা মেনে চলা উচিত।


