Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Dec 2, 2013 in ছোট্টমনি |

ছোট্ট সোনামণিকে আদরে সাবধানতা

ছোট্ট সোনামণিকে আদরে সাবধানতা

জন্মের পর থেকে ৮-৯ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের দেবদূতের মত মনে হয়। যে কেউই তাদের দেখলে আদর করার লোভ সামলাতে পারে না। গাল টিপে, কোলে নিয়ে, শূন্যে লোফালুফি করে নানাভাবে শিশুকে আদর করে মানুষ। তবে এভাবে আদর করার সময় বেশ জোরে ঝাঁকুনি বা কোন কিছুর সাথে আঘাত বা ধাক্কা লাগলে তা শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মস্তিস্কে আঘাত লাগলে তা ভয়াবহ হতে পারে। কোন করনে আঘাত পেলে এটা খুলির হাড়ের সাথে ঘসা লেগে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আর শিশুদের হাড় তুলনামূলক ভাবে নরম বলে তারা আঘাতপ্রাপ্ত হলে ক্ষতির সম্ভবনা বেশি থাকে। এই ধরণের আঘাত বা সমস্যাকে বলা হয় ব্যাটার্ড বেবি সিনড্রোম বা শেকেন বেবি সিনড্রোম।

এ ধরণের আঘাতে চোখের ভিতরে বা রেটিনায় রক্তক্ষরণ, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ, মস্তিস্কে পানি জমে যাওয়া এমনকি স্পাইনাল কর্ডও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। বাচ্চাদের ঘাড়ের পেশীও দুর্বল থাকে তাই বেশি ঝাঁকুনি খেলেও এমন হতে পারে। সাধারণত ১-২ বৎসর বয়সী বাচ্চাদেরই এমন আঘাত বেশী লাগে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ৫-৬ বৎসর বয়সী বাচ্চাদের বেলায়ও এমন ঘটতে পারে।

আঘাত যদি সামান্য হয় তাহলে শিশুর তেমন কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু আঘাত যদি গুরুতর হয় তাহলে ২০-২৫ ভাগ শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ঝাঁকির কারণে রেটিনা আঘাতপ্রাপ্ত হলে শিশুর দৃষ্টিশক্তি বাধাগ্রস্থ হয় এমনকি অন্ধত্ব বরণও করতে হতে পারে। মস্তিস্কে যদি রক্তক্ষরণ হয় তবে মস্তিস্কের ভিতরের চাপ বেড়ে যায় আর এতে অন্যান্য অনেক সমস্যার মধ্যে শিশুর মানসিক বা শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি বা শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া ইত্যাদি অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শিশুকে আদর করতে চাইলে সাবধানে আদর করুন। খেয়াল রাখুন যেন কোথাও আঘাত না লাগে, আর শিশুকে বেশি ঝাকাবেন না। ছোট্ট বাচ্চাকে শূন্যে লোফালুফি করা থেকেও বিরত থাকুন। আর ছোট্ট বাচ্চা অনেক সময়ই নিজের চাহিদা বলে বোঝাতে পারে না, সেক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরে তার চাহিদা বা সমস্যা বোঝার চেষ্টা করুন। অযথা তাকে মারবেন না বা আঘাত করবেন না। আপনার সন্তান আপনার ভবিষ্যৎ আর তাই তাকে দেখে শুনে রাখার দায়িত্বও আপনার।