Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on May 19, 2014 in ছোট্টমনি, জেনে রাখা ভাল |

নবজাতক শিশুর জন্ডিসঃ প্রতিকার ও ব্যবস্থা

নবজাতক শিশুর জন্ডিসঃ প্রতিকার ও ব্যবস্থা

প্রায় সকল নবজাতক শিশু তার জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই জন্ডিস রোগের শিকার হয়ে থাকে। কোন কোন শিশুর ক্ষেত্রে এর মাত্রা কম, আর কারো কারো ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি হয়। সাধারনত নবজাতকের শরীরে হলুদ পিগমেন্ট বা বিলিরুবিনের গঠন হয়ত বেশি বলেই এই জন্ডিস দেখা দেয়। বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি হয়ে গেলে তা শিশুর ছোট্ট শরীর এর গঠন সহ্য করতে পারে না আর তা শরীরে হলুদ আকার হিসেবে ধারন করে এবং শিশু জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। শিশুর লিভার ধীরে ধীরে বেড়ে উঠলে এই জন্ডিস সেরে যায়।

এই জন্ডিস তখনি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে পরে যখন এর মাঝে অন্য কোন শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। যেসব শিশুরা নির্ধারিত সময়ের পরে জন্মগ্রহন করে তারাই সাধারনত এই সমস্যার শিকার হয়ে থাকে কারন তাদের শরীর পূর্ণাঙ্গ সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের চেয়ে বেশি দুর্বল হয়। বিলিরুবিন বেশি মাত্রায় থাকলে তা মারাত্বক জন্ডিসে রূপ নেয় আর তা শিশুর স্বাভাবিক মস্তিষ্ক গঠনে বাঁধা দেয়।

যদি আপনার নবজাতকের জন্ডিস স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে তাহলে আপনার দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। জেনে রাখুন কিছু পন্থা যা আপনার সন্তানের বিলিরুবিনের মাত্রা স্বাভাবিকে নামিয়ে আনবে।

(১) শিশুর বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি থাকলে শিশুকে প্রতিদিন কিছুটা সময় হালকা সূর্যালোকে রাখুন। এটি হোম ফটোথেরাপি নামে পরিচিত। এই সূর্যালোক আপনার নবজাতকের শরীর থেকে অতিরিক্ত বিলিরুবিনের মাত্রা স্বাভাবিক পরিমাণে নামিয়ে নেবে এবং অতিরিক্ত বিলিরুবিন শিশুর প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যাবে। এটিই সাধারন মাত্রার জন্ডিস সারানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।

(২) শিশুকে কিছুক্ষন পরপরই খেতে দিন। একটু পরপর মায়ের বুকের দুধ দিন। এটি শিশুর অতিরিক্ত বিলিরুবিনের পরিমান কাটিয়ে নেবে। তাই প্রত্যেক দুই-তিন ঘন্টা অন্তর অন্তর শিশুকে খাওয়ান, আর রাতে যখন সে সজাগ হয় তখন খেতে দিন।

তবে আর যাই হোক শিশুর জন্ডিস দেখা যাওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, জেনে নিন শিশুর অবস্থা। এতে একদিকে আপনি যেমন নিশ্চিন্ত হতে পারবেন তেমন আপনার নবজাতকের যত্নও নিতে পারবেন সঠিকভাবে।