গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক অবস্থা ও শিশুর ওপর তার প্রভাব
শিশুর জীবনের প্রথম নয়টি মাস সে কাটায় তার মায়ের শরীরের অভ্যন্তরে। এই নয় মাসেই তার শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন দিক ধীরে ধীরে পৃথিবীর জন্য তৈরী হতে থাকে। আর তাই, এই সময় মায়ের মানসিক অবস্থা যাচাই করা ও তাকে মানসিকভাবে হাশিখুশি ও ভাল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আজ বিস্তারিত জেনে নেই মায়ের মানসিক অবস্থার কিছু বিরুপ দিক ও তার কারনে শিশুর উপর কি কি প্রভাব পড়তে পারে সেই সম্পর্কে।
গর্ভবতী মায়ের মনে তিন ধরণের বিরূপ প্রভাব পরতে পারে তা হলোঃ
- গর্ভকালীন হতাশাঃ গর্ভকালীন সময়ে মায়ের মনে বিভিন্ন রকম হতাশা এসে ভর করতে পারে। শারীরিকভাবে মা যেহেতু একটি কঠিন সময় পার করে থাকেন তাই তার মাঝে বিভিন্ন রকম হতাশা বাসা বাঁধতে পারে। শরীরের বিভিন্ন জটিলতা ও একা একা থাকলে মায়ের মাঝে এসব নিয়ে হতাশা কাজ করে।
- মানসিক চাপঃ যতই গর্ভকালীন সময় পার হতে থাকে আর শিশু ভূমিষ্ঠের সময় এগুতে থাকে মায়ের মনে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। শিশুর জন্ম সঠিকভাবে হবে তো? শিশু ভালো থাকবে তো? এসব নিয়ে মায়ের মনে নানারকম মানসিক চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে। বিশেষ করে প্রথম বারের মতো মা হতে যাওয়া নারীরা সবচেয়ে বেশি এই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন।
- গর্ভকালীন দুশ্চিন্তাঃ এমনিতেই গর্ভাবস্থায় একজন নারী নানান রকম মানসিক চাপে থাকেন। এর মধ্যে চিকিৎসকের বেঁধে দেওয়া সময়ে শিশু ভূমিষ্ঠ না হলে এই চাপ অতিরিক্ত রকমের দুশ্চিন্তায় রূপ নেয়।
শিশুর উপর এর প্রভাবঃ
নাহ! শুধু জিনের প্রভাব আর বাইরের পারিপার্শ্বিক অবস্থা নয়, মায়ের মনের এই বিরূপ দিকগুলোও শিশুর ওপর সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করে। মায়ের এই ধরণের সমস্যাগুলো ভবিষ্যতে শিশুর দুর্বল চিত্ত, মানসিক বিস্তারে অপরিপক্কতা ইত্যাদি সমস্যার তৈরী করতে পারে। শারীরিক যেকোন সমস্যার চেয়ে এই ধরণের সমস্যাগুলো শিশুর মানসিক উন্নয়নকে বিশাল আকারে হুমকির সম্মুখীন করতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীর স্বামী সহ পরিবারের সকল সদস্যকে মায়ের মানসিক অবস্থা হাশিখুশি ও নিশ্চিন্ত রাখতে সচেষ্ট হওয়া উচিত।


