শিশুর রোগঃ মামপ্স
ভাইরাস জনিত এই সংক্রামক রোগটি ততটা ছোঁয়াচে নয়। এই রোগটি শ্বাস-প্রশ্বাস ও হাঁচি-কাশির সাথে এবং সংক্রমিত ব্যবহার্য জিনিসপত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারনত গালের প্যারটিড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে, তবে পেটের ভেতরে প্যানক্রিয়াস গ্রন্থি, ছেলদের অন্ডকোষের ভেতরে, মেয়েদের পেটের ভেতরের ডিম্বকোষ এবং মস্তিষ্ককে আক্রমণ করে জটিল অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। চোয়ালের নিচে সাবমেনডিবুলার গ্রন্থিকেও মামপ্স আক্রমণ করে।
মামপ্স এর লক্ষণঃ
(১) জ্বর হয়।
(২) কানের সামনে এবং চোয়ালের নিচে ফুলে যায়।
(৩) ফোলা জায়গা লাল হয়ে যায় ও গরম থাকে।
(৪) শিশুর দুর্বলতা দেখা দেয়।
(৫) অনেক সময় পেটে এবং অন্ডকোষে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে।
(৬) শিশুর মাথা ব্যথা ও বমি হতে পারে এবং বোধজ্ঞান লোপ পেতে পারে।
চিকিৎসাঃ
(১) জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়াতে হবে। (অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
(২) গালের ফোলাতে ব্যথা কমাতে ঠান্ডা বা গরম সেঁক দিতে হবে।
(৩) শিশুকে নরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে এবং মুখের ভেতরটা পরিষ্কার রাখতে হবে। শিশুকে দিনে অনেকবার কুলি করাতে হবে।
(৪) অন্ডকোষ আক্রান্ত হলে অন্ডকোষকে হালকাভাবে টেনে বেঁধে ঝুলে পড়া থেকে রক্ষা করতে হবে। অনেক সুয় ‘করাটিসোন’ নামক ঔষুধ ভাল কাজে দেয়।
(৫) মস্তিষ্ক বা প্যানক্রিয়াস গ্রন্থি আক্রান্ত হলে শিশুকে হাস্পাতালে ভর্তি করাতে হবে।
এই রোগের প্রতিরোধঃ
(১) গাল ফোলার ২ দিন আগে থেকে এবং গাল ফোলা সম্পূর্ণ না কমা পর্যন্ত রোগটি ছোঁয়াচে থাকে। গাল ফোলা না সারা পর্যন্ত অন্যান্য শিশুকে রোগীর কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে।
(২) মামপ্স এর প্রতিষেধক টিকা আছে, সাধারনত এম এম আর () নামে যে টিকা পাওয়া যায় তা মামপ্স, হাম ও রুবেলা এই ৩টি রোগের প্রতিষেধক টিকা।


