গর্ভবতীর বিপজ্জনক রোগঃ একলাম্পসিয়া
গর্ভবতী এবং গর্ভস্থ শিশুর প্রাণঘাতী এই রোগ খুব দুর্লভ নয়। আমাদের দেশে মাতৃমৃত্যুর একটা প্রধান কারন এই একলাম্পসিয়া। ২০ সপ্তাহের পর থেকে, বিশেষ করে শেষ ত্রৈমাসিকের সেকোনো সময় প্রি-একলাম্পসিয়া খিঁচুনিযুক্ত হয়ে একলাম্পসিয়ায় রূপান্তরিত হতে পারে, অথবা হঠাৎ কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই রক্তচাপ বেড়ে খিঁচুনি শুরু হয়ে যেতে পারে। খিঁচুনি শুরু হওয়ার আগে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, চোখে ঝাপসা দেখা এবং বমি হতে পারে। গর্ভকালীন পরিচর্যাই এই রোগের সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধক। আর প্রসব হচ্ছে এর সব থেকে ভাল চিকিৎসা। তবে যা-ই করা হোক, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সবচেয়ে জরুরি। বিলম্ব হলে মস্তিষ্ক, কিডনি, যকৃত বা ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে মায়ের জীবনহানি ঘটতে পারে। খিঁচুনি নিবারক ম্যাগনেসিয়াম-সালফেটের বহুল ব্যবহার ইদানিং মাতৃমৃত্যুর ঘটনা অনেক কমিয়ে এনেছে। খিঁচুনি ছাড়াও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, প্রসাব কম বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ডান পাশে বুকের নিচে ব্যথা হওয়া, চোখে না দেখা এবং শ্বাসকষ্ট হওয়া এই রোগের মারাত্মক লক্ষণ। গর্ভফুলের দোষে যেহেতু এই রোগ হয়, তাই এর চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গর্ভফুল বের করে দেওয়া, অর্থাৎ দ্রুত প্রসব সম্পন্ন করা, সেটা যোনিপথে হোক কিংবা সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমেই হোক।


