গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগ
কোনো কোনো মহিলার শুধু গর্ভাবস্থায়ই বহুমূত্র রোগের লক্ষণ দেখা যায়, শিশু জন্মের পর আবার সেই লক্ষ্ণ দূর হয়ে যায়। যে মহিলা স্বাভাবিক অবস্থায় বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত ছিলেন না, গর্ভকালে যদি তার প্রসাবে শর্করা পাওয়া যায়, তবে তিনি গর্ভকালীন বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়, ভালো গর্ভকালীন সেবা দিকে বহুমূত্র রোগাক্রান্ত মায়েদের শিশূরা সাধারণত স্বাভাবিক এবং স্বাস্থবান হয়, তবে অপূর্ণকালপ্রাপ্ত শিশু এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বড় শিশু জন্মানোর আশঙ্কা থেকে যায়। শুধু খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যেমন চিকিৎসা করা যায়, আবার এতে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ না হলে ইনসুলিন ব্যবহার এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।
যে রোগীর ডায়াবেটিস গর্ভধারণের আগে শুধু খাদ্য নিয়ন্ত্রন করেই ঠিক রাখা যেত, গর্ভবতী হলে তাঁর হয়তো ইনসুলিন লাগবে। গর্ভধারণের আগে যে রোগী অল্প মাত্রায় ইনসুলিন নিতেন, গর্ভবতী হলে হয়তো তাঁর ইনসুলিনের ডোজ বাড়াতে হবে। বংশগত রোগ হওয়ার কারণে রোগীর ইতিহাস নেওয়ার সময় জেনে নেওয়া দরকার, তাঁর পরিবারের কারও বহুমূত্র রোগ ছিল কি না। গর্ভকালে নিয়মিত প্রসাব পরীক্ষা করে দেখতে হএ বহুমূত্র রোগ হচ্ছে কি না।
যাদের গর্ভকালীন বহুমূত্র রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশিঃ
(১) যার বহুমূত্র রোগের পারিবারিক ইতিহাস আছে।
(২) আগে যার মৃত সন্তান জন্মেছিল।
(৩) আগে যার অতিকায় শিশু জন্মেছিল।
(৪) আগে থেকে যার বহুমূত্র রোগ ছিল।
(৫) আগের গর্ভকালে যার রক্তে উচ্চমাত্রায় শর্করা পাওয়া গিয়েছিল।
(৬) আগে যার কখনো জন্মদোষযুক্ত শিশু জন্মেছিল।
(৭) গর্ভকালে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, পেটের সন্তান বড় হওয়া।


