শিশুর জটিল রোগঃ নিউমোনিয়া
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিচার করলে শিশু জন্মের পর যেসব মারাত্নক রোগে বেশি আক্রান্ত হয় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো নিউমোনিয়া। একটু অসাবধানতা, একটু ঠান্ডার সমস্যা কিংবা পারিবারিক ইতিহাস- এমন অনেক কারণেই শিশু এই জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র একটি গবেষনায় দেখা গেছে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সের শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা প্রায় ১৫৬ মিলিয়ন। এবং বাংলাদেশেও এর হার আশংকাজনক ভাবে বেশি। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই রোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে।
শিশুর নিউমোনিয়া বোঝার উপায়ঃ
• দ্রুত শ্বাস হার শিশুর নিউমোনিয়া’র সবচেয়ে বড় উপসর্গ। দুই মাস বয়সের নিচে প্রতি মিনিটে ৬০ বার বা তার বেশি শ্বাসের হার দেখা গেলে বুঝতে হবে শিশু হয়তো নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত। দুই মাস থেকে এক বছরের ক্ষেত্রে এই হার ৫০ বা তার বেশি। এক থেকে পাঁচ বছরের বয়সে এই হার ৪০ বা তার বেশি হতে পারে।
• মারাত্নক নিউমোনিয়া বুঝতে হবে যখন শিশু বুকের দুধ পানরত অবস্থায়, ঘুমানো অবস্থায় শিশুর বুকের নিচের অংশ দেবে যায়।
• এছাড়াও আরো অনেক উপসর্গ ররয়েছে যা দেখলে বুঝতে হবে শিশু বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে তা হলো-
১। শিশু ভালোভাবে খাচ্ছে না বা বুকের দুধ পানে অসমর্থ,
২। সবসময় নিস্তেজ ভাব,
৩। জিভ ও ঠোটের নীলবর্ণ ধারণ হওয়া,
৪। শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া এবং বুক থেকে শব্দ বের হওয়া।
শিশুর নিউমোনিয়াতে করনীয়ঃ
১। শিশুর যদি দ্রুত শ্বাস হার কিংবা বুক নিচের দিকে নেমে যেতে দেখা যায় তবে বুঝে নিতে হবে শিশু মারাত্নক মাত্রায় নিউমোনিয়াতে ভুগছে,
২। মনে রাখুন, যেসব শিশুর শুধুমাত্র কাশি, জ্বর কিংবা সর্দি তারা কিন্তু নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত নয়। এক্ষেত্রে শিশুকে যেন কোনরকম এন্টিবায়োটিক না দেওয়া হয়।
৪। মারাত্নক নিউমোনিয়া না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়াতে হবে এবং তিন দিন পরপর ফলো-আপ করতে হবে।
৫। কোন সমস্যা যাতে না হয় সবসময় শিশুর জন্য অক্সিজেন, নেবুলাইজার,স্যালাইন এসবের ব্যবস্থা তাৎক্ষনিকভাবে করতে হবে।


