আপনার আপনার শিশুর বেড়ে উঠার জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টিমানসমূহ
শিশুর জন্মের ছয়মাস সে তার মায়ের দুধ থেকেই শরীরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টিগুন পেয়ে থাকে। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে শিশুর বৃদ্ধির সাথে সাথে তার স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পুষ্টিমান প্রয়োজন হয়। কি সেই পুষ্টিমানগুলো আর কোন কোন খাবারে পেতে পারেন আপনার সোনামণির প্রয়োজনীয় পুষ্টিমানসমূহ তা জেনে নিন-
ক্যালসিয়ামঃ ক্যালসিয়াম আপনার সন্তানের হাড় ও দাঁতের শক্ত ও মজবুত গঠনে সহায়তা করে। স্নায়ু ভালোভাবে সচল রাখে, পেশী গঠনে সহায়তা করে এবং খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরে সহায়তা করে। দুধ, দই, পনির, ছোট মাছ, নানান রকম ডাল থেকে পর্যাপ্ত ক্যলসিয়াম পাওয়া যায়।
ফ্যাটি এসিডঃ দেহের কোষ গঠন, শক্তি সঞ্চার, মস্তিষ্কের কাজ ভালোভাবে পরিচালনার জন্য ফ্যটি এসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায় চর্বি, বিভিন্ন রকম তেল, ঘি, ডিমের কুসুম ইত্যাদি খাবার থেকে।
লৌহঃ রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরীর জন্য, রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার জন্য লৌহের গুরুত্ব অপরিসীম। কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস ইত্যাদি খাবার থেকে আপনি মেটাতে পারেন প্রয়োজনীয় লৌহের চাহিদা।
পটাশিয়ামঃ শরীরে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রন করতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পটাশিয়াম সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পেশী গঠনেও সহায়তা করে। পটাশিয়ামের পুষ্টিগুন যেসব খাবার থেকে পেতে পারেন, তা হলো- মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, কলা, আলু, গাজর, আপেল প্রভৃতি খাবার।
ভিটামিন এঃ দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে, দেহের টিস্যুর কার্যকলাপ সঠিকভাবে বজায় রাখতে ভিটামিন এ’র অবদান অনস্বীকার্য। পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, আম, ছোট মাছ ইত্যাদি খাবারে প্রচুর ভিটামিন এ বিদ্যমান।
ভিটামিন সিঃ লোহিত রক্ত কণিকা তৈরীতে, শিশুর দেহের হাড় গঠনে, রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে, অতিরিক্ত লৌহ স্বাভাবিক মাত্রায় আনতে ভিটামিন সি কাজ করে। বিভিন্ন টক ফল যেমন আমলকী, তেতুল, লেবু ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
ভিটামিন ডিঃ ক্যলসিয়ামের মত ভিটামিন ডি ও হাড় ও দাঁতের শক্ত ও মজবুত গঠনে কাজ করে। হরমোনের সঠিক বৃদ্ধিতেও ভিটামিন ডি কাজ করে থাকে। দুধ-ডিম, কলিজা, দুগ্ধজাত বিভিন্ন খাদ্যে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
ভিটামিন ইঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, মেটবোলিক চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ করতে ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। শাকসবজি, ফলমূল সহ উপরোল্লিখিত সব খাদ্যেই কমবেশি ভিটামিন ই পাওয়া যায়।
এইসব খাদ্যের পুষ্টিমান বিচারে প্রতিদিন আপনার সন্তানকে সুষম পরিমাণে খাওয়ান। এতে আপনার শিশুর স্বাস্থ্য সঠিকভাবে গঠিত হবে, আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।


