শিশুর ‘না’ বলা রোধে বাবা-মায়ের করণীয়
‘শাসন করা তারই সাঝে সোহাগ করে যে’- এই উক্তির সাথে কমবেশি সবাই আমরা পরিচিত। সন্তানের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাবা- মা নিজের সবটুকু দিয়ে সন্তানকে ভালোবাসেন। আবার সন্তানও জন্মের পর থেকে বাবা-মায়ের নিরিড় ছায়াতলে বেড়ে উঠে। কিন্তু কিছু কিছু সময় এমন অবস্থা তৈরী হয় যে মা-বাবা ও সন্তানের মাঝে দূরত্ব তৈরী হয় কিছু সাধারণ ভুল বোঝাবুঝির জন্য। “আমার ছেলে আমার কোন কথা শোনেনা”, “আমার সন্তান খুব দুষ্টু’ এমন অভিযোগ বাবা মায়ের প্রায়শই লেগে থাকে। তবে ব্যাপারটি একটু সিরিয়াস পর্যায়ে চলে যায় যখন বাবা-মায়ের কথা একেবারেই কোন শিশু শুনতে চায়না। পড়তে বসতে বললে ‘না’, খেতে বললে ‘না’, ঘুমাতে বললে ‘না’ এমন সমস্যার অন্ত নেই। কি করে সন্তানের এ না বলে কমাতেপারেন সে বিষয়ে চলুন কিছু জেনে নেওয়া যাক।
সাধারনত দুই বছর বয়স থেকে শিশুর মাঝে এই না বলার প্রবণতা দেখা যায়। কি ধরণের পদক্ষেপ নিলে এই ‘না’ বলা রোগ থেকে শিশুকে মুক্ত করতে পারবেন চলুন জেনে নেইঃ
১। সবার প্রথমে বাবা-মাকে নিওম শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে ও ছোটবালা থেকে শিশুর এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ‘না’ বলাটিকে খুব বেশি এড়িয়ে চলুন এবং হ্যাঁ বোধক কথা নিয়ে শিশুকে উৎসাহিত করুন। খুব শান্তভাবে ও আদরের সাথে শিশুর সাথে কথা বলুন। শিশুকে আদর করে কিছু বললে সে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনার কথা শুনবে।
২। ছোট শিশুরাও নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে ভালোবাসে। তাই শিশুদের শুধুমাত্র একটি কাজের কথা না বলে তার জন্য অপশন খোলা রাখুন যাতে সে কোন কাজটি করবে তা বেছে নিতে পারে।
৩। রাগারাগি, অভিমান এসব শিশুর সাথে যত কম করবেন তত আপনার সাথে সন্তানের সম্পর্ক কাছের হবে ও সে আপনার কথা শুনবে সহজেই। সবসময় শিশুর সাথে খিটমিটে আচরণ করলে তা হিতে বিপরীতি বেশি বয়ে আনে।
৪। যে বিষয় নিয়ে শিশুর সাথে ঝামেলা হতে পারে তা পারতপক্ষে এড়িয়ে যান।
৫। খুব ছোট ছোত বিষয় নিয়ে সন্তানের সাথে অযথা তর্কে জড়াবেন না।
৬। যখন শিশুকে কোনকিছু করতে বলবেন তাকে বুঝিয়ে দিন আপনি বিষয়টিতে কতটা সিরিয়াস। আপনার দিক থেকে কোন রকম হেলে ফেলা করে কথা বলতে শুনলে শিশু বিষয়টি হয়তো হালকাভাবেই দেখবে। সন্তানকে আপনার কথার ভালো একজন শ্রোতা হিসেবে এভাবেই তৈরী করতে পারেন।


