শিশুর সঙ্গী যেসব রোগঃ কি করবেন?
ছোটবেলার কিছু অসুখ বিসুখ রয়েছে যা আপনার সন্তানের পিছু যেন ছাড়তেই চায় না। আর সন্তান যদি অসুস্থ থাকে বাবা-মা কি শান্তিতে থাকতে পারে? কোনভাবেই নয়। কিন্তু এমন কিছু রোগ আছে যা শিশুদের দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে হয়েই থাকে। আজ এমন চারটি রোগ ও রোগে বাবা মায়ের করনীয় সম্পর্কে জেনে নিন যার ফলে রোগ প্রতিরোধ করতে না পারলেও আপনার সন্তানের অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ঠিকই নিতে পারবেন। এতে আপনি আর সন্তান দুজনেই আরাম ও কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
১। কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়াঃ কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি রোগ যাতে শূন্য থেকে দুই বছর কিংবা এর চেয়ে কিছু বেশি বয়সের শতকরা ৩০ ভাগ শিশুই আক্রান্ত হয়। শিশুর খাবার দাবার থেকে সবকিছুতেই অস্বস্তি নিয়ে আসে এই কোষ্ঠকাঠিন্য। শিশুর মল ত্যাগ করার ক্ষেত্রেও দেখা দেয় সমস্যা। বারবার তরল খাবার খাওয়ানো, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাওয়ানো, শিশুকে বেশিরভাগ সময় হালকা মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ানো এই সমস্যার সমাধান দ্রুত দিতে পারে।
২। ঠাণ্ডা ও কাশিঃ এটা মোটামুটি নিশ্চিত করেই বলা যায় আপনার সন্তান বছরের যেকোনো সময় এক বা একাধিকবার ঠাণ্ডা ও কাশিতে আক্রান্ত হতে পারে। বিভিন্ন রকমের ভাইরাসের আক্রমণই এই ঠাণ্ডা-কাশির প্রধান কারণ। আর এই ঠাণ্ডা-কাশি শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া থেকে সব ধরণের স্বাভাবিক কাজে বাঁধার সৃষ্টি করে। কিন্তু কি করে বুঝবেন শিশু্রর ঠাণ্ডা-কাশি অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে গেছে?
- ঠাণ্ডা লাগলে শিশু যদি নিজের সব স্বাভাবিক কার্যক্রমে এমনকি তার প্রিয় কাজেও অনীহা প্রকাশ করে।
- শিশুকে বেশ দুর্বল মনে হলে।
- ঠাণ্ডা পাঁচ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।
৩। ডায়াপার-র্যাশঃ ডায়াপার পরানোর ফলে শিশুর সেসব জায়গায় র্যাশ বা বেশি খারাপ অবস্থা হলে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। শিশুর জন্মের পরপর শিশুর ত্বক খুব বেশি কোমল থাকে বলেই এমনটি হয়ে থাকে। এটি যাতে না হয় সেই জন্যে শিশুর ডায়াপার বদলানোর সময় সম্পর্কে খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখুন। আর পরিষ্কার থাকার পরেও যদি কোন সমস্যা হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪। বমিঃ বমি করা শিশুদের মাঝে আরেকটি প্রধান সমস্যা। সাধারণত শিশুকে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়ানো হয় বা তাঁর চেষ্টা করা হয় তবে শিশু বমি করে। এছাড়া খাবারে অনীহা, শারীরিক অন্যান্য অসুস্থতার কারনেও শিশু বমি করতে পারে। শিশুর খাবারের পরিমানের ব্যাপারে সচেতন হওয়াই এই সমস্যার বড় সমাধান। তবে এতে কাজ না হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।


