শিশুদের দেরিতে স্কুলে ভর্তি করানো কি বুদ্ধিমান পদক্ষেপ?
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা অপেক্ষাকৃত দেরিতে স্কুলে ভর্তি হয় তারা অন্যান্য শিশুদের থেকে বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় ভাল করে। Australian Institute of Family Studies এর একটি গবেষণাতে সেসব শিশুদের পর্যবেক্ষণ করা হয় যারা ২০০৫ সালে স্কুলে ভর্তি হয় এবং তাদেরকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে যখন তারা তাদের স্কুলে ১২ বছর সম্পূর্ণ করবে।
অতীতের গবেষণার ফলাফলে দেখানো হয়েছে যে, যেসব শিশুরা দেরিতে স্কুলে ভর্তি হয়েছে তারা শব্দ ও মৌখিক যুক্তির পরীক্ষায় (Words & Verbal Reasoning) অন্যান্য শিশুদের তুলনায় ভাল করে।
এ গবেষণার অন্যতম গবেষক Dr. Ben Edwards বিখ্যাত পত্রিকা The Australian কে বলেছেন “যদি শিশুরা খুব ছোট হয় এবং স্কুলে ভর্তির জন্য খুব অল্প বয়স্ক হয় তাহলে আমি তাদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে মা-বাবাকে খুব সতর্ক হবার পরামর্শ দেব। যদি তাদের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার জন্য খুব অল্প বয়স্ক হয় এবং তারা কিছুটা পর্যুদস্ত (strugling) থাকে, তাহলে মা-বাবাকে পুনরায় চিন্তা করা উচিৎ শিশুদের এখনই স্কুলে পাঠাবেন নাকি আরেকটু দেরি করে পাঠাবেন”। যে বছর গবেষণাটি শুরু হয় সে বছর প্রায় ১৪.৫% মা-বাবা তাদের শিশুদের অল্প বয়সে স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত থাকেন, আর এটা ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি পরিলক্ষিত হয়।
Dr. Edwards এটাও দেখেছেন যে শিশুদের সামাজিক ও অনুভুতি বিকাশের ক্ষেত্রে তাদের স্কুলের ভর্তি হবার বয়সের কোন প্রভাব পরে না। এ গবেষণার প্রারম্ভিক ফলাফলে আরও দেখা গেছে যে শিশুদের স্কুলে ভর্তির বয়স তাদের ক্লাসে অথবা সহপাঠীদের সাথে আচরণকে প্রভাবিত করে না।
Dr. Edwards এর মতে শিশুদের বয়স ও লিঙ্গ এ গবেষণায় কোন প্রভাব ফেলেনি, যা বিস্ময়কর। তিনি মা-বাবাকে এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হতে নিষেধ করেছেন। যেহেতু এই ফলাফল গবেষণার শুরুর দিকের। যা কিনা পরবর্তী বছরগুলোতে পরিবর্তিত হতে পারে।


