Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Dec 19, 2013 in গর্ভবতী মা |

গর্ভকালীন হৃদযন্ত্রের সুস্থতা

গর্ভকালীন হৃদযন্ত্রের সুস্থতা

গর্ভকালীন সময়ে কারো কারো হৃদযন্ত্রের পালসের রেইট বেড়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে পালসের গতি ১৪০ এর বেশি। ফলে স্বভাবতই গর্ভবতী মা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান যে উনি সুস্থ আছেন কিনা। যদিও ১৪০ বা তাঁর উপরের পালস রেইট অতিরিক্ত, কিন্তু এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ নয়। এতে হার্টবিট না কমে বরং আরও বেড়ে যাবে। তাই এই সময় গর্ভবতী মায়ের উচিৎ মানসিক দুশ্চিন্তা না করে বরং এমন কিছু করা যাতে মন এবং দেহ উভয়ই শান্ত থাকে। এইসময় এমন কোন কাজ করা উচিৎ না যার ফলে শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি বেড়ে যাতে পারে। অন্তত প্রথম ছয় সপ্তাহ এটা নিশ্চিত করতেই হবে যে শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট অতিক্রম করে নি। কেননা গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে অধিক তাপমাত্রা গর্ভধারণে ত্রুটির নির্দেশক।

 

সত্যিকার অর্থে, পরবর্তীতে যদি গর্ভবতী মা’র শরীরের আর্দ্রতার অভাব থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা যদি অধিক হয়, তাহলে প্রিম্যাচিউর শিশু জন্মানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এবং এই দুটি উপসর্গই হৃদযন্ত্রের অধিক পালস রেইটের সাথে সম্পর্কিত। এই সময় মা যদি হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার জন্য শরীর চর্চা করতে চান, তাহলে হাল্কা মেজাজের ব্যায়ামই তাঁর জন্য উপযুক্ত।

 

গর্ভকালীন সময়ে কোনভাবেই উচিৎ হবে না পালস রেইট ১৪০ এর উপর উঠতে দেওয়া। পালস রেইট বেশি হওয়া যেমন উচিৎ নয়, তেমনি কম হওয়াও অসুস্থতার লক্ষণ। পরিমিত পালস রেইট শিশুর শরীরে রক্ত যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়। কিন্তু দ্রুত পালস রেইটের ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ড রক্ত সরবরাহ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না, ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়।

 

এছাড়াও শরীরের অধিক তাপমাত্রা নির্দেশ করে গর্ভের অভ্যন্তরে শিশুর গঠন ব্যাহত হচ্ছে। যদি গর্ভের প্রথম কয়েক সপ্তাহে শরীর অত্যধিক গরম থাকে, তাহলে শিশুর পাকস্থলীর গঠন বিকৃত হতে পারে। তাছাড়াও মায়ের শরীর উত্তপ্ত হলে শরীরের রক্ত তা ঠাণ্ডা করতে প্রচেষ্টা চালায় এবং কিছু পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে শিশুর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পারে। অতএব, বুঝা যাচ্ছে গর্ভাবস্থায় শরীরের অধিক তাপমাত্রা সুস্থ শরীরের পরিচায়ক নয়।  শরীরের তাপমাত্রা এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে প্রচুর পানি পান করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।