নবজাতকের টিকার সাতকাহন
এমন একটা সময় ছিল যখন বাবা-মা এর প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল যে শিশুটি বেঁচে থাকবে তো? এর কারণ ছিল কয়েকটি মারাত্মক রোগ। যক্ষ্মা, হাম, ধনুষ্টঙ্কার এর মত প্রাণঘাতী রোগগুলো ছিল অসংখ্য শিশুর মৃত্যুর কারণ। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রগতি দিয়েছে রক্ষাকবচ। আজ একটি টিকাই এই ভয়াবহ রোগকে চিরতরে দূরে ঠেলে দিতে পারে। তবে এখনও আমাদের দেশের মানুষ অনেক অশিক্ষা আর কুসংস্কারের বেড়াজালে বন্দী। তারা শিশুর জন্ম থেকে শুরু করে রোগ-শোক সব কিছুকেই আল্লাহ্র দান মনে করে। তাই তারা রোগ প্রতিরোধেও অনীহা প্রকাশ করে। তবে আশার কথা হল সরকার আর দাতা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত এনজিও এর অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ আমাদের দেশের প্রসূতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই রোল মডেল।
শিশুর জন্মের ১ বছরের মধ্যে ৭ টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টিকা শিশুকে দিতে হবে। আমাদের দেশে সরকারী ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে এই সকল টিকাদান কর্মসূচী পরিচালিত হয়।
বিসিজি টিকাঃ
এটি জন্মের পরপরি দেয়া হয়। যক্ষ্মা প্রতিরোধই এর কাজ। জন্মের পর থেকে ৪২ দিন বা দেড় মাসের মধ্যে এটি দিতে হয়। শিশু একদম এ ছোট থাকে বলে টিকা দেয়ার পর জায়গাটি একটু ফুলে যায় এবং শিশুর সামান্য জ্বরও আস্তে পারে। তবে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।
ডিপিটি টিকাঃ
ধনুষ্টঙ্কার, ডিপথেরিয়া এবং হুপিং কাশি এই ৩ টি রোগের জন্য ডিপিটি টিকা দেয়া হয়। ৩ টি ডোজের মাধ্যমে এটি দেয়া হয়। প্রথমটি দেড় মাস বয়সে, দ্বিতীয়টি আড়াই মাস বয়সে আরে শেষেরটি সাড়ে ৩ মাস অর্থাৎ প্রতি ১ মাস অন্তর টিকা ৩ টি দেয়া হয়। এর ৩ ডোজের সাথে ২ ফোটা করে পোলিওর টিকাও খাওয়ানো হয়।
হেপাটাইটিস-বি টিকাঃ
যখন ডিপিটি টিকা দেয়া হয় তখন শিশুকে হেপাটাইটিস-বি থেকে বাঁচাতে আরো একটি টিকা দেয়া হয়। এটিও পর পর ৩ ডোজে নিতে হয়।
হামের টিকাঃ
শিশুর বয়স যখন ৯ মাস হয় তখন তাকে হামের টিকা দেয়া হয়। একই সাথে তাকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ও পোলিওর চতুর্থ ডোজও দেয়া হয়।
শিশুর জন্মের পর এই ৭ টি টিকা অবশ্যই দিয়ে নিন। কিছুদিন পর থেকে সরকারি উদ্যোগে হিব- হেমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি নামে আরেকটি টিকা দেয়া হবে। এর বাইরে মিসেলস, মামস ও রুবেলা থেকে বাঁচাতে এমএমআর টিকাটি দিয়ে দিন আপনার শিশুকে। আর সেই সাথে চিকেন পক্সের টিকা দিতেও ভুলবেন না।


