গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস ও মায়ের কিছু লক্ষণ
মা হওয়া মানে একজন নারীর জীবনের নারীত্বের পূর্ণতা পাওয়া। নয়টি মাস একজন মা তার দেহে বহন করে তার প্রাণের চেয়ে প্রিয় শিশু সন্তানকে। আর এই গর্ভাবস্থায় মা’কে পার করতে হয় বিভিন্ন রকম শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে। আজ জেনে নিন গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে মায়ের কি ধরনের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পরিবারে সকল সদস্য, বিশেষ করে স্বামীকে তার স্ত্রীর এসব বিষয়ে রাখতে হবে দৃঢ় নজর।
(১) সকাল বেলা কিছু খেতে না পারা, বমি বমি ভাব আসা এসব মর্নিং সিকনেস সংক্রান্ত কিছু সমস্যা যায় শতকরা ৮৫ শতাংশ গর্ভবতী মায়ের মধ্যে। এটা এই সময়ে স্বাভাবিক ব্যাপার। স্বল্প বিরতিতে অল্প অল্প খাবার খাওয়া, কিছুটা আদা খাওয়া, ডাক্তারের পরামর্শে কিছুটা ভিটামিন বি-৬ সেবন করলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
(২) কিছু বিশেষ খাবার বা টক জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছা গর্ভবতীর এই সময় আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। যদি যেসব খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হয় তা মায়ের নিজের ও গর্ভের শিশুর কোন ক্ষতি না করে তবে তা সাধ্যমতো খেতে দেওয়াই উচিৎ। আর তা না হলে ওই বিশেষ খাবারের বিকল্প কোন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দিন যাতে মায়ের খাবারের সাধ কিছুটা হলেও পূরণ হয়।
(৩) মাছ বা অন্যান্য বিভিন্ন খাবারের গন্ধ পাওয়া এ সময়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই গন্ধের কারণে মায়ের খাবারের প্রতি অনীহা বা অনিচ্ছা তৈরী হয়। কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেই সাধারণত এই সমস্যা মিটে যায়।
(৪) সারা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা ক্লান্তি অনুভব করা গর্ভকালীন প্রথম তিন মাসের অন্যতম একটি লক্ষণ। মা’কে সবসময় কেউ না কেউ সঙ্গ দেওয়া, কোন কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখা, ভালো গান শোনা, সিনেমা দেখা, চিকিৎসকের পরামর্শ মতো আয়রন সেবন করা মা’কে ক্লান্তি থেকে কিছুটা দূরে রাখতে পারে।
(৫) গর্ভকালীন প্রথম তিন মাসে মায়ের ঘন ঘন প্রস্রাব হতে থাকে। বিভিন্ন শারীরিক ভিন্নতা মায়ের শরীরে খাপ খাওয়াতে থাকে বলে এই ব্যাপারটি ঘটে থাকে। এতে রাতে ঘুমের যাতে কোন ব্যঘাত না ঘতে তার জন্য ঘুমানোর আগে পানি কম খাওয়া উচিত।
(৬) এছাড়াও গর্ভকালীন এই সময়ে ঘন ঘন মাথা ব্যথা, চোখের দৃষ্টিতে কিছুটা পরিবর্তন, স্তনের গঠনে পরিবর্তন, মানসিক কিছু সমস্যা, রক্তচাপের সমস্যা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।


