শিশুর দৈহিক গড়ন ও অভিবাবকের যত দুশ্চিন্তা
স্বভাবত মানসিক কারণেই গর্ভবতী মায়েদের মাঝে সুন্দর সুন্দর শিশুদের ছবি দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এটি তাকে মানসিকভাবে আনন্দিত ও মন প্রফুল্ল রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু কিছু মানুষের মাঝে এই ধারণা কাজ করে যে, এসব ছবি দেখার উপরই গর্ভে থাকা শিশুর সৌন্দর্য নির্ভর করে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্কারও বিভিন্ন সমাজে চালু রয়েছে। কিন্তু, বিশেষজ্ঞরা বলেন, গর্ভাবস্থায় মা কি করছেন বা কি দেখছেন তা শিশুর উপর বহুলাংশেই প্রভাব বিস্তার করে থাকে। কিন্তু সেটি মানসিক প্রভাব, কোনভাবেই শারিরিক প্রভাব নয়।
এই ভুল ধারনা অনেকেই পোষন করলেও শিশুর শারিরিক গঠন এবং অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য শিশুর জিন দ্বারা আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে,এক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় মায়ের কার্যক্রম কোনভাবেই ভূমিকা রাখেনা।শিশুর গায়ের রঙ, নাকের ও দেহের গড়ন, এমনকি সে প্রাপ্ত বয়ষ্ক অবস্থায় কতটা লম্বা হতে পারে সবই জিন দ্বারা পূর্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে। কিন্তু, মায়ের গর্ভে ছোট পরিসরে থাকার ফলে শিশুর দেহের গঠনে কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে। যেমন-
• শিশুর সাধারন জন্মের সময় চাপ প্রয়োগের ফলে মাথার গড়নে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে,
• গর্ভাবস্থায় ছোট পরিসরে থাকার ফলে পা কিছুটা বেকিয়ে থাকতে পারে,
• নাকের নরম মাংসপেশির থাকে বিধায় গর্ভাবস্থায় ঘর্ষনের ফলে নাকের গঠনের কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
কিন্তু ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই, এইসব পরিবর্তন খুব স্বাভাবিক এবং স্বল্প সময়ের জন্যই হয়ে থাকে। শিশুর জন্মের দুই বছরের মাঝেই আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হতে শুরু করে। জীন ছাড়াও পরিবেশের কারণেও শিশুর শরীরে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখে যেতে পারে যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মিলিয়ে যেতে থাকে তাই এ বিষয়ে বাবা মায়ের বেশি ঘাবড়ানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি আপনার শিশুর অস্বাভাবিকত্বের মাত্রা বেশি মনে হয় তবে দেরী না করে আজই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হোন।


